আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৮তম ওভারের শেষ বলে সিঙ্গেল নিতে চেয়েছিলেন শাদাব খান। কিন্তু অতি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাকে ফিরিয়ে দেন আসিফ আলি। তা দেখে যেন কমেন্ট্রি বক্সে থাকা ক্রিকেট বিজ্ঞরাও চমকিত। ঐ সিঙ্গেল না নেওয়ায় শেষ দুই ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন পড়ে ২৪ রান। স্বীকৃত ব্যাটার বলতে আসিফ আলি একাই ছিলেন। মাঠের সবচেয়ে ছোট দিকের সুবিধা পেতে তাই নিজেকে স্ট্রাইক প্রান্তে রাখাটাই শ্রেয় মনে করেছিলেন তিনি।
টি-টোয়েন্টির এই যুগে আজকাল শেষ দুই ওভারে ২৪ রান অসম্ভব কিছু নয়। তা হরহামেশাই হয়। কিন্তু কাজটা বড্ড কঠিন, আর সেটা যদি রান তাড়া করতে গিয়ে হয় তাহলে তো কথাই নেই। তবে নিজের পাওয়ার হিটিং ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস ছিল বলেই ম্যাচটি শেষ ওভারে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করলেন না আসিফ। ১৯তম ওভারে করিম জানাতকে ৪ ছক্কা হাকিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে আরও একবার জয়ের উল্লাসে ভাসান তিনি। যেখানে তার অবদান ৭ বলে ২৫ রান।
Asif Ali at the #T20WorldCup:
— ESPNcricinfo (@ESPNcricinfo) October 29, 2021
19 balls
7 sixes
52 runs
Power-hitting at its finest ???? pic.twitter.com/NN8FY5m2Zf
ছক্কা মারাটা খুবই সহজ কাজ আসিফের। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ঠিক একই জায়গা থেকে দলকে উদ্ধার করার পাশাপাশি জয় এনে দেন। খেলেন ১২ বলে ৩ ছক্কায় ২৭ রানের অপরাজিত ইনিংস। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলার পর, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আর কোনো নির্দেশনা আছে কি না জানতে চেয়েছিলেন আসিফ। যদি থেকে থাকে সেটাও পূরণ করে দেবেন তিনি।
আসিফ টুইটারে লেখেন, 'আর কোনো নির্দেশনা আছে পাকিস্তান? ধন্যবাদ ইসলামাবাদ ইউনাইটেড ও সেই লোকদের যারা কঠিন সময়ে আমার প্রতি আস্থা রেখেছিল।'
অথচ এই বিশ্বকাপের কদিন আগেও আসিফ পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে ছিল এক রহস্যের নাম। ঘরোয়া ক্রিকেট আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যে যে বিস্তর ফারাক আছে সেটা বোঝাতো আসিফ আলিকে। তিন বছর পাকিস্তানের জার্সিতে খেলেও ফুটে উঠতে পারেননি ৩০ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটার। কিন্তু এর বাইরে গেলেই ঝড় তুলেন মাঠে। চলতি বছর দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে সফরে ব্যর্থতার পর তুমুল সমালোচনা ও বিদ্রুপের শিকার হন তিনি।
শর্ট বলে তার দুর্বলতা বেশ ভালোভাবেই আলোচিত হচ্ছিল। অথচ সেসব নিয়ে মাথাই ঘামাননি আসিফ, 'আমি সমালোচনায় কান দেই না। সোশ্যাল মিডিয়াও অনুসরণ করি না। এর থেকে অনেক দূরে আছি। আমার রোলটাই এমন যে আমি মাঝেমধ্যে দলে আসি এবং মাঝেমধ্যে বাদ পড়ি। পাকিস্তান আমাকে প্রয়োজন মনে করায় ডেকেছে।'
Remember the name @AasifAli2018
— Ben Stokes (@benstokes38) October 29, 2021
আসিফের ক্যারিয়ারের শুরুর পথটা মসৃণ ছিল না। ক্রিকেটে আসার আগে কাজ করেছেন কামার হিসেবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে পরিসংখ্যান বেশি কথা বলে না তার হয়ে। তবে বল পেটাতে খুবই ভালোবাসেন। তাই ক্রিকেটের ক্ষূদ্র সংস্করণটাই তার প্রথম পছন্দ। ফিনিশার হিসেবে এমন একজনকে অনেকদিন ধরেই খুজছিল পাকিস্তান। তাই ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে তাকে নিয়ে দল ঘোষণা করেছিল পিসিবি।
সেই বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দেড় বছরের কন্যা সন্তানের মৃত্যুর খবর পান আসিফ। তারপরও দেশের কথা ভুলেননি। মেয়ের দাফন শেষে সোজা চলে যান ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ ক্যাম্পে। কিন্তু শোককে শক্তিতে পরিণত করে জ্বলে উঠতে পারেননি এই ব্যাটার। এক বিশ্বকাপে না হোক, আরেক বিশ্বকাপে ঠিকই নিজের মর্ম বোঝাচ্ছেন আসিফ।
ইত্তেফাক/টিএ
