আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের গতকাল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ছাত্রাবাস ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ সাহেনা আক্তার বলেন, মেডিক্যাল কলেজে আগে থেকেই ছাত্র সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপরে নিষেধাজ্ঞা ছিল। শুক্রবার রাতে ছাত্রাবাসে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। শনিবার মারামারি হয়েছে কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে। সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কলেজের ছাত্রাবাস বন্ধেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছাত্রাবাস ও ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে গত মার্চেও ছাত্রাবাসে সিট দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদেকুর রহমান জানান, গত শুক্রবার রাতে প্রধান ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে শনিবার কলেজের প্রধান ফটকের সামনে আবারও দুই গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে মাহফুজুল হক (২৩), নাইমুল ইসলাম (২০) ও আকিব হোসেন (২০) আহত হন।
সংঘর্ষের ঘটনায় ডা. মতিউর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
করোনা ভাইরাসের বিস্তারের কারণে দেড় বছর কলেজে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। ফের ক্লাস চালু হলো মাত্র এক মাস হয়েছে। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস হচ্ছে। এই অবস্থায় কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করায় মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব-বিরোধ চলে আসছে। শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই দুই গ্রুপ।
