সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে রাইডারদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বুয়েট

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:২৪

সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমান বাংলাদেশে অন্যতম প্রধান সমস্যা। প্রতি বছর এ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হচ্ছে হাজারো কর্মক্ষম মানুষ। আহত এবং পঙ্গুত্ব বরণ করছে তারও অধিক মানুষ। বাংলাদেশ পুলিশের দেয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশে গড়ে তিন হাজারেও বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়, যাতে মৃত্যুবরণ করেন তিন হাজারেরও অধিক মানুষ, আর আহত হন অন্তত সাড়ে তিন হাজার। প্রতিবছর এ সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেশের মোট জিডিপি এর ২-৩% যা টাকার অঙ্কে ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। পুলিশ রিপোর্টেড তথ্যগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ৯২ ভাগ দুর্ঘটনার পেছনে চালক দায়ী।

সাম্প্রতিক সময়ে যেসকল যানবাহন দুর্ঘটনায় বেশি ভূমিকা রাখছে তার মধ্যে মোটরসাইকেল একটি। তা ছাড়া রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের কারণে বিশেষ করে রাজধানীতে এ মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনার হার বেড়ে যাচ্ছে। দুর্ঘটনার তথ্য থেকে প্রতীয়মান হয় ২০১৫ সালে ঢাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ১৩% যা ২০১৮ সালে এসে পৌঁছেছে ২০ শতাংশে।

দুর্ঘটনার কারণ, যানবাহন এবং রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে Obhai solutions Ltd. এর সহযোগিতায়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউট ওভাই রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের রাইডারদের (মোটরসাইকেল, সিএনজি) নিয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজন করেছে প্রশিক্ষণ কর্মশালা। এছাড়া নারীদের জন্য বিশেষ সেবা ‘ওবোন’ এর নারী রাইডারদের জন্যও এই কর্মশালায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষনের আওতায় প্রথম ধাপের মতো রাইডারকে রোড সেফটি এবং ডিফেন্স ড্রাইভিং এর ওপর প্রশিক্ষণ শুরু হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি রাইডারদের জন্য সেফ ড্রাইভিং ম্যানুয়াল তৈরি করে সরবরাহ করা হবে যাতে উন্নত দেশের মতো রাইডাররা সড়ক নিরাপত্তা এবং ডিফেন্স ড্রাইভিং সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করতে পারে। এই ম্যানুয়ালটিতে সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কিত ধারণা, দুর্ঘটনার কারণ, রোড সাইন-মার্কিং, ডিফেন্সিভ ড্রাইভিং টেকনিক, সড়কের আইন-কানুন এবং দুর্ঘটনার পরবর্তী প্রাথমিক চিকিত্সা এবং করণীয় ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হবে।

এআরআই মনে করে, যেহেতু মানুষ এখন রাইড শেয়ারিং সার্ভিসকে সাদরে গ্রহণ করছে এবং মানুষের চাহিদাও ক্রমে বেড়েই চলেছে তাই ওভাই এর মতো অন্য রাইড শেয়ারিং সার্ভিস গুলোরও এখনই সড়কের নিরাপত্তার ব্যাপারে এগিয়ে আসা উচিত। কারণ, রাইডারদের আচরণগত পরিবর্তনসহ দেশের দুর্ঘটনা রোধে অন্যতম ভূমিকা  রাখবে।