রিয়াল মাদ্রিদ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলয় আয়াক্সের মাঠ থেকে ২-১ গোলের জয় নিয়ে ফিরলেও সেটিকে ছাপিয়ে আলোচনায় ভিএআর বিতর্ক।
বুধবার রাতে ইয়োহান ক্রুইফ অ্যারেনার ম্যাচটিতে প্রথমার্ধে আধিপত্য ছিল আয়াক্সের। তবে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আক্রমণে ওঠার পরেও ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় গোলের দেখা পায়নি তারা। ম্যাচের বয়স ঘন্টার কাঁটা পেরোতেই অচলাবস্থা ভাঙে করিম বেনজেমার গোলে। ৭৫ মিনিটে আয়াক্স ফরোয়ার্ড হেকিম জেয়িচ লক্ষ্যভেদ করলে সমতায় ফেরে স্বাগতিক দলটি। তবে তাদের স্বস্তি বেশিক্ষণ টেকেনি। ৮৭ মিনিটে মার্কো অ্যাসেন্সিওর গোলে প্রতিপক্ষের মাঠে জয় নিশ্চিত হয় কোচ সান্তিয়াগো সোলারির শিষ্যদের। প্রথমার্ধে অবশ্য কর্নার থেকে একবার রিয়ালের জালে বল জড়িয়েছিল আয়াক্স। ডাচ দলটির একদফা উদযাপনের পর ভিএআরে দেখা যায় ফরোয়ার্ড জায়িচ হেড করার সময়ে অফসাইডে থেকে রিয়াল গোলরক্ষক থিবো করতোয়ার স্বাভাবিক কাজে বাধা দিয়েছিলেন আয়াক্স ডিফেন্ডার নিকোলাস টাগ্লিয়াফিকো। ফলে গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন রেফারি।
আয়াক্স কোচ এরিক টেন হ্যাগের মতে বাতিল হওয়া গোলটিই শেষ পর্যন্ত নিয়ামক হয়ে দাঁড়াতে পারে এই দ্বৈরথে। তিনি বলেন, ‘ভিএআরের মুহূর্তটি, যাতে গোলটি বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছিল, প্রতিযোগিতার এই ধাপে এসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। গোলটি রেফারির অনুমোদন পায়নি, এটা লজ্জাজনক!’ হ্যাগের বক্তব্য প্রতিধ্বনিত হলো দলটির মিডফিল্ডার ফ্র্যাঙ্কি ডি ইয়ংয়ের কণ্ঠেও। ডাচ টিভি প্রোগ্রাম ‘নস জার্নাল’কে তিনি বলেন, ‘দল হিসেবে আমরা বেশ ভালো করেছি। আমাদের গোলটি নিষিদ্ধ করা হলো, এটা লজ্জাজনক। সম্ভবত বড় দলের পক্ষে রায় দেয়াটা খুবই সহজ!’
তবে ভিএআরের ক্ষেত্রে রেফারিদের বিশ্বাস করা ছাড়া উপায় দেখছেন না রিয়াল কোচ। সোলারির ভাষায়, ‘তাদের মতকে বিচার করার মতো উপাদান আমাদের কাছে নেই। আমাদের কাছে মনিটর নেই। ভিএআর কিংবা রেফারিরা যা বলেন তাতেই বিশ্বাস রাখতে হবে আমাদের।’ ম্যাচে আয়াক্সের আধিপত্যের ব্যাপারটি আর্জেন্টাইন কোচ মাথা পেতে স্বীকার করে নিয়ে বলেন, ‘ম্যাচে আমরা দুর্দশায় ছিলাম, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা জানতাম কিভাবে খেলতে হয়, কিভাবে দুর্দশায় থেকেও সুযোগ সৃষ্টি করতে হয় এবং তা কাজে লাগাতে হয়।’
তবে সব মিলিয়ে এই ম্যাচের পারফর্মেন্সকে বাজে বলতে নারাজ সোলারি। তিনি বলেন, ‘এই ফলটি পেতে অনেক কিছু করতে হয়েছে আমাদের। পরিশ্রম করতে হয়েছে, সংগ্রাম করতে হয়েছে, প্রতিপক্ষের বল কেড়ে নেয়ার চাপ থেকে কি করে বাঁচতে হয় তা জানতে হয়েছে এবং শক্তি ধরে রাখতে হয়েছে। এটা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলর লড়াই আর এখানে এমন কেউ টিকে নেই যারা খুব ভালো দল নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘তারা অনেক প্রাণশক্তি নিয়ে ম্যাচটি খেলেছে, কিছু কিছু সময়ে আমাদেরকে সহ্যের সর্বোচ্চ সীমায় নিয়ে গিয়েছিল, আমাদের জয়কে বেশ কঠিন করে তুলেছিল তারা।’
