নালিতাবাড়ীতে সেচ সংকটে ১২শ’ একর আবাদি জমি!

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫২

নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী নন্নী ও পোড়াগাঁও এই দুই ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া চেল্লাখালী নদীর ভাটিতে পানির প্রবাহ না থাকায় এক হাজার ২শ একর সদ্য রোপণ করা বোরো আবাদ সেচ সংকটের মুখে পড়েছে।

কৃষক, সেচ মালিক ও এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্ভর করে বোরো মৌসুমে পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বাতকুচি থেকে নন্নীর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর পর্যন্ত এলাকায় ২০-২৫টি অগভীর নলকূপের মাধ্যমে এলাকার কৃষক তাদের জমিতে সেচ দিয়ে থাকেন। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর ভাটিতে ২০ দিন ধরে পানির প্রবাহ না থাকায় পোড়াগাঁও ইউনিয়নের একাংশ ও নন্নী ইউনিয়নের চারটি গ্রামের সদ্য রোপণ করা বোরো আবাদ সেচ সংকটে পড়েছে। এলাকাগুলো হচ্ছে—পোড়াগাঁও  ইউনিয়নের বাতকুচি, টিলাপাড়া, নন্নী ইউনিয়নের অভয়পুর, তাজুড়াবাদ, নন্নী উত্তরবন্ধ ও নিশ্চিন্তপুর।

নন্নী উত্তরবন্ধ এলাকার মোঃ ফরিদ আহম্মেদ বলেন, ‘আমি দশ-বারোদিন আগে দুই একর জমিতে বোরো ধান লাগাইছি। নদীতে পানি প্রবাহ নাই। ক্ষেতও পানির লাইগা ফাইট্টা যাইতাছে।’

মেশিন মালিক আবদুল হক বলেন, ‘আমার মেশিনের আওতায় প্রতি বছর ৫৫ একর জমি আবাদ হয়। এ বছর ২২ একর লাগানোর পর থাইকা নদীতে আর পানির প্রবাহ নাই।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শরিফ ইকবাল বলেন, ‘নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কথা শুনে আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি, নদীর উজানে পানির প্রবাহ নেই। বালি উত্তোলনের মেশিনগুলো পানির প্রবাহ বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুর রহমান বলেন, ‘এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি জানার পর এলাকায় গিয়েছিলাম। বালু উত্তোলনের সব মেশিন বন্ধ করে দিয়েছি।’