ইরানে আত্মঘাতী বোমা হামলার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি যুক্তরাষ্ট্র ও এর আঞ্চলিক মিত্র ইসরাইলকে দায়ী করেছেন। এদিকে ওই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতরা সবাই ইরানের অভিজাত রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনীর সদস্য। রুহানি বৃহস্পতিবার বলেন,‘‘অপরাধটি হোয়াইট হাউজ, তেল আবিবে সন্ত্রাসবাদের প্রধান সমর্থক এবং তাদের আঞ্চলিক এজেন্টদের কালো তালিকায় একটি ‘নোংরা দাগ’ হিসেবে থাকবে।’’ তবে তিনি ইসরাইল ছাড়া দায়ী আঞ্চলিক দেশগুলোর নাম বলেননি। পূর্বে তেহরান ইরানি নিরাপত্তার বাহিনীর ওপর রক্তাক্ত হামলায় সুন্নি মিলিশিয়া গ্রুপকে সহায়তার জন্য দেশটির প্রধান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবকে দায়ী করেছে। তবে রিয়াদ এই ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের হুঁশিয়ারি পুনর্ব্যক্ত করে রুহানি বলেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনীর বিরুদ্ধে চালানো সবচেয়ে খারাপ হামলার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত ও বিচার করতে ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। উল্লেখ্য, গত শরতে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ শহরে সামরিক কুচকাওয়াজে বন্দুকধারীদের হামলায় রেভলিউশনারি গার্ডের ১২ সদস্যসহ ২৫ জন নিহত হয়েছিলেন। এদিকে ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ওই আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান সীমান্তের কাছে ইরানের সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে হামলার এ ঘটনাটি ঘটে। রেভলিউশনারি গার্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের সদস্যরা বাসে করে যাওয়ার সময় এক আত্মঘাতী বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে হামলা চালান।
সুন্নি জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ আল আদল হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ফার্স। জইশ আল আদলের দাবি- তারা ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সংখ্যালঘু বালুচ জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে সশস্ত্র সংগ্রাম করছে। পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী ইরানের এলাকাগুলোতে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর পাশাপাশি সশস্ত্র মাদক চোরাকারবারীদেরও তত্পরতা আছে। ইরানের শিয়া মুসলিম কর্তৃপক্ষ বলেছে, জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের নিরাপদ আস্তানা থেকে তত্পরতার চালায়।
