উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় এখন বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:০৪

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি সমন্বয় করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশ দূষণ যাতে না বাড়ে সেজন্য সরকার নতুন নতুন পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে। একইসঙ্গে বায়ু দূষণ রোধে একটি যুগোপযোগী আইন করার কাজ চলছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি হোটেলে ‘নির্মল বায়ু আইন’ এর খসড়া নিয়ে আলোচনার জন্য আয়োজিত কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। পরিবেশ অধিদফতর, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহযোগিতায় মন্ত্রণালয় আইনের খসড়াটি তৈরি করেছে।

পরিবেশ অধিদফতর, বেলা ও বুয়েটের যৌথভাবে আয়োজিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার ও মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মঞ্জুরুল হান্নান খানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক সুলতান আহমেদ। নির্মল বায়ু আইনের খসড়া উপস্থাপন করেন বেলা’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং খসড়া আইনের কারিগরি দিকগুলো তুলে ধরেন বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আলী আহম্মদ শওকত চৌধুরী।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ঢাকার বায়ু দূষণের  ৫৮ শতাংশ উত্স হলো ইটভাটা ও ধুলাবালি। এছাড়া তীব্র যানজট, মেয়াদ উত্তীর্ণ মোটর যান, কল-কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধাতু বাতাসে যোগ হয়ে দূষণ বাড়াচ্ছে। ফলে শ্বাস কষ্ট, স্নায়ুবিক সমস্যা, বুদ্ধিমত্তা হ্রাস পাওয়া, ক্যান্সারসহ মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে চলেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সময়োপযোগী আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার বলেন, আইন প্রণয়নের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় মানুষকেও সচেতন হতে হবে। সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে বায়ু দূষণ ভয়াবহভাবে বেড়ে যায়। তাই আগামী অক্টোবরের মধ্যে আইনটি পাস করানোর আহ্বান জানান তিনি। রিজওয়ানা হাসান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্মল বায়ু আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। আইনের খসড়ায় একটি ‘অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিবেশ অধিদফতরের জরিমানা দিয়ে একটি ‘এয়ার কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড’ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া আইনের ওপর উন্মুক্ত আলোচনায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর পক্ষ থেকে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, বায়ু দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিযোগ করার জায়গা তৈরি করতে হবে। এটা আইনে থাকা জরুরি। পরিবেশবিদ আতিক রহমান বলেন, প্রস্তাবিত এই আইনের উদ্দেশ্য হতে পারে- সবার নির্মল বায়ু পাওয়ার অধিকার। এই অধিকার যে লঙ্ঘন করবে তাকে শাস্তি পেতে হবে। আয়োজকরা জানান, শিগগিরই খসড়াটির বাংলা প্রকাশ করা হবে। অংশীজনরা ১৫ দিনের মধ্যে লিখিত আকারে তাদের মতামত দেবেন এবং তার ভিত্তিতে আইনটি পরিমার্জন করে পাস করানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।