খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী চমক

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:২১

কাজের সুবাদে আমাদের অনেক সময় পরিবার বা বাসার বাইরে যেতে হয়। সেই সময়টাতে বাইরে থেকেও বাসার খোঁজখবর জানাবে ‘এডভান্স সিকিউরিটি সিস্টেম’। এটি তৈরি করেছেন রাজধানীর বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজের ১০ম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী। তাদের তৈরি যন্ত্রটির সাহায্যে বাইরে থেকে মোবাইলের সাহায্যে সদর দরজা খোলা ও বন্ধ করা যাবে। আর বাসার ভেতরে যদি কেউ প্রবেশ করে, তাহলে মোবাইলে সংকেতের মাধ্যমে তা জানিয়ে দেবে।

শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘বিজ্ঞান ও শিল্প-প্রযুক্তি মেলা’ প্রাঙ্গণে খুদে শিক্ষার্থীরা তাদের চমকপ্রদ উদ্ভাবন প্রদর্শন করে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এই মেলার উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। নিজস্ব প্রাঙ্গণে এই বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন একই মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিএসআইআর’র চেয়ারম্যান মো. ফারুক আহমেদ।

‘খাদ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা’ প্রযুক্তি তৈরি করেছে ভিকারুন নেসা নূন স্কুলের তিন শিক্ষার্থী। শেখ আয়মা সিদ্দিকা, ফারহানা জেরীন ও নূর-ই সাবা। ১০ম শ্রেণির এই তিন শিক্ষার্থী জানান, রাজধানীতে এখন বড়বড় কেবল বিল্ডিং, তাই বৃষ্টির পানি এখন আর মাটিতে পড়তে পারে না। আমরা নিচ থেকে পানি তুলছি, কিন্তু মাটির নিচে বৃষ্টির পানি যাচ্ছে না। তাই ফ্লাইওভার এবং বাড়ির ছাদে পড়া বৃষ্টির পানি মাটির নিচে পৌঁছে দেয়ার যন্ত্র এবং ধানের তুস থেকে ভোজ্য তেল, মাছের বর্জ্য থেকে মুরগির খাদ্য এবং গরুর পয়ঃবর্জ্য থেকে জমি উর্বর করার সার তৈরির প্রক্রিয়া তৈরি করেছেন। এসবগুলোই পরিবেশবান্ধব। তাই তাদের আবিষ্কারের নাম দিয়েছেন ‘খাদ্য ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা’।

‘স্মার্ট ডাস্টবিন’ তৈরি করেছে বিসিএসআইআর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্বপ্না রানী, নিহা ও ফারিহা। এই ডাস্টবিনের সামনে ময়লা নিয়ে গেলেই নিজে থেকেই ময়লার ঝুড়ির মুখ খুলে যাবে। ময়লা ফেলা হলে আবার নিজে থেকেই ঝুড়ির মুখ বন্ধ হয়ে যাবে। ‘স্মার্ট ব্লাইন্ড স্টিক’ তৈরি করেছেন ফাহিম ফয়সাল, মো. আহাদ, ইমন হোসেন। তারা আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী। এই স্টিকের সাহায্যে একজন অন্ধ ব্যক্তির সামনে আগুন থাকলে, সঙ্গে থাকা অন্ধ ব্যক্তির সাদা ছড়িটি অটোমেটিক শব্দ করে সতর্ক করতে থাকবে এবং বাসায় গ্যাসের লিক থাকলে স্টিকটি সংকেতের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে থাকবে।

প্লাস্টিক থেকে ডিজেল, প্রিন্টারের কালি এবং জ্বালানির গ্যাস তৈরি করেছেন নূর মোহাম্মদ স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। ‘এডভান্স ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ তৈরি করেছে ওয়াইডাব্লিউসিএ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসমিয়া আহমেদ বিন্দু। ‘ইলেট্রিক হুয়িল চেয়ার’ তৈরি করেছেন রেদওয়ান আহমেদ। তারা এসেছেন বঙ্গবন্ধু কলেজ রাজশাহী থেকে।

পানিতে পড়ে শিশুমৃত্যুর বিষয়টি প্রতিরোধে প্রকল্প তৈরি করেছেন মিজানুর রহমান। যশোর জেলার শার্শা উপজেলা থেকে এসেছেন তিনি। ঘরে বা বাসায় এই ডিভাইসটি বসিয়ে দিলে শিশু বাড়ির পাশের পুকুর, ঢোবা বা বালতি জমিয়ে রাখা পানিতে পড়লেও ডিভাসটি সংকেত দিবে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা সকলের জন্যে উন্মুক্ত থাকবে।