উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৪ মার্চ সাত বিভাগের ২৫ জেলার ১২৭টি উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই ধাপের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি। যাচাই-বাছাই হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং প্রত্যাহারের শেষ সময় ৭ মার্চ। বৃহস্পতিবার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তফসিল ঘোষণার কথা জানায় ইসি।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপে ৮৭ উপজেলার তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল; যার ভোটগ্রহণ হবে ১০ মার্চ। গত ৭ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত দ্বিতীয় ধাপের ১২৯ উপজেলায় ভোট হবে ১৮ মার্চ। যদিও দ্বিতীয় ধাপ থেকে গোপালগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলার ভোট তৃতীয় ধাপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এবার দেশের ৪৯০টি উপজেলায় পাঁচ ধাপে নির্বাচন আয়োজনের কথা আগেই জানিয়েছে ইসি।
আইনানুযায়ী উপজেলা পরিষদের তিনটি পদ— চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ারও সুযোগ থাকছে। ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার প্রত্যেকটি জেলার সদর উপজেলার সবগুলো কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। তবে আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ইভিএম ব্যবহার নাও হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পদে থেকে নির্বাচন করতে পারবেন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান। তবে নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক হলে ইউনিয়ন পরিষদেরচেয়ারম্যান, সদস্য, জেলা পরিষদের সদস্য, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরদের পদত্যাগ করতে হবে। এছাড়া অনেক কলেজ সরকারি হয়েছে কিন্তু সেখানে যারা চাকরি করেন, যারা এখনো সরকারি হন নাই, তাদেরকেও উপজেলা পরিষদে নির্বাচন করতে হলে চাকরি থেকে পদত্যাগ করতে হবে।
তৃতীয় ধাপে যে ১২৭ উপজেলায় ভোট হবে :চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট, গোমস্তাপুর, নাচোল, শিবগঞ্জ। রংপুর জেলার রংপুর সদর ও মিঠাপুকুর। চুয়াডাঙ্গা জেলার চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, জীবননগর, দামুড়হুদা। মাগুরা জেলার মাগুরা সদর, শালিখা, শ্রীপুর, মহম্মদপুর। নড়াইলে নড়াইল সদর, কালিয়া ও লোহাগড়া। সাতক্ষীরা জেলার সাতক্ষীরা সদর, শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, আশাশুনি, দেবহাটা, তালা ও কলারোয়া। কুষ্টিয়া জেলার কুষ্টিয়া সদর, ভেড়ামারা, খোকশা, কুমারখালী, মিরপুর, দৌলতপুর। মেহেরপুর জেলার মেহেরপুর সদর, গাংনী ও মুজিবনগর। ঝিনাইদহ জেলার ঝিনাইদহ সদর, কালিগঞ্জ, শৈলকুপা ও হরিণাকুণ্ড।
এছাড়া বরিশাল জেলার বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ, বাবুগঞ্জ, বানারীপাড়া, উজিরপুর, গৌরনদী, আগৈলছাড়া, মুলাদি ও হিজলা। ঝালকাঠি জেলার ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া। ভোলার বোরহানউদ্দিন। শেরপুরের নালিতাবাড়ি, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতি। মাদারীপুরের শিবচর, কালকিনি ও রাজৈর। শরীয়তপুরের শরীয়তপুর সদর, জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট। গোপালগঞ্জ জেলার গোপালগঞ্জ সদর, টুঙ্গীপাড়া, কোটালীপাড়া, কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর। রাজবাড়ি জেলার রাজবাড়ি সদর, গোয়ালন্দ, পাংশা ও বালিয়াকান্দি। মানিকগঞ্জ জেলার মানিকগঞ্জ সদর, দৌলতপুর, ঘিওর, শিবালয়, সিঙ্গাইর, হরিরামপুর ও সাটুরিয়া। গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ও কালিগঞ্জ। নরসিংদী জেলার নরসিংদী সদর, পলাশ, শিবপুর, মনোহরদী, বেলাব ও রায়পুর। কিশোরগঞ্জ জেলার কিশোরগঞ্জ সদর, হোসেনপুর, কাটিয়াদি, পাকুন্দিয়া, তাড়াইল, করিমগঞ্জ, ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, নিকলী, বাজিতপুর, কুলিয়ারচর ও ভৈরব। চাঁদপুর জেলার চাঁদপুর সদর, কচুয়া, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি। লক্ষ্মীপুর জেলার লক্ষ্মীপুর সদর, রামগঞ্জ, রায়পুর, কমলনগর ও রামগতি। চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী এবং কক্সবাজার জেলার কক্সবাজার সদর, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, রামু, উখিয়া ও টেকনাফ।
উপজেলা পরিষদের নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হলেও ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের অধিকাংশই এই নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের মার্চ-মে মাসে ছয় ধাপে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
