মোস্তাফিজ মিঠু
(শেষ পর্ব)
আড্ডা মোড় ঘুরে নতুন ব্যান্ডগুলোর জনপ্রিয়তা নিয়ে আলাপ চলছে। ফয়সাল ও লিংকন তাদের অভিজ্ঞতা থেকে বেশকিছু কারণ বিশ্লেষণের সাথে আড্ডা জমে উঠেছে। তবে বাকি দুই সদস্যের চুপ থাকায় আমেজের কোথাও যেন ঘাটতি পড়ল। তাই এবার আলোচনার প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলাম বাকি দু’জনের দিকে। ব্যান্ডের অনুজ সদস্য তিতাস।
নতুন ব্যান্ডের গানের জনপ্রিয়তা...
এই প্রজন্মের একজন বেইজিস্ট হয়ে নতুন ব্যান্ডগুলোর গানের জনপ্রিয়তা বিষয়ে বললেন, ‘এখন গান তৈরি করার চর্চাটা কমে গেছে। আমার কাছে এই কারণটাই মুখ্য মনে হয়। একটা গানের পূর্ণাঙ্গ রূপ নিতে যে সময়টা প্রয়োজন সেই সময়টায় অনেক সময় ঘাটতি থেকে যায়।’ একই প্রসঙ্গে এবার ড্রামার রিয়াজের কাছেও জানতে চাইলাম। ‘একটা ব্যান্ড শুরু হয় বন্ধুত্ব থেকে। সবাই একসাথে আড্ডা দেওয়া। গানের বিভিন্ন পরিকল্পনা ভাগাভাগি করা ও একসাথে সঙ্গীতায়োজন করা, এই চর্চাটা কমেছে। এখন সবকিছু ডিজিটাল হয়ে গেছে। মোবাইলেই সবাই যোগাযোগের কাজ সেরে নিচ্ছে। এই চর্চার পরিবর্তন দরকার।’—বললেন রিয়াজ।
বুঝতাম না কীভাবে অটোগ্রাফ দিতে হয়...
প্রিয় তারকার কাছ থেকে অটোগ্রাফ নেওয়াটা এখন পেছনের আবেগময় অনুভূতি। কারণ সেলফিতে এখন ভক্তরা প্রিয় শিল্পীকে নিজের সাথে একটি ফ্রেমে আটকে রাখতে চায়। তাই অটোগ্রাফ দেওয়াটাও হয় না। তবে প্রথম অটোগ্রাফ দেওয়ার অভিজ্ঞতাটা তারকাদের জন্য ক্যারিয়ারে অন্যতম ঘটনা। ভোকালিস্ট লিংকন জানালেন এ প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমিতো প্রথমে বুঝতাম না কীভাবে অটোগ্রাফ দিতে হয়। একবার একজন ফোন দিয়ে জনালেন তিনি আমার ভক্ত। আমিতো শুনে অবাক। কানে মনে হয় ধাক্কা লাগলো। এই কথাটি মনে আছে। অটোগ্রাফের ঘটনাটা মনে করতে পারছি না।’
‘অনিকেত প্রান্তর’-এর লিরিক দেখে আমিতো ক্ষেপে গেলাম...
‘আর্টসেল’-এর প্রায় ১৬ মিনিটের গান ‘অনিকেত প্রান্তর’। আড্ডার শেষটা তাই এই গান দিয়েই শেষ করা হোক। লিংকন বলতে শুরু করলেন গানের ঘটনা। ‘রুম্মন আমাকে যখন ৩-৪ পৃষ্ঠার লিরিক এনে দিলো। অনিকেত প্রান্তর-এর লিরিক দেখে আমিতো ক্ষেপে গেলাম। আমার সাথে রুম্মনের তর্ক শুরু হয়ে গেল। এত বড় গান কি মানুষ শুনবে! তবে একটা পর্যায় গিয়ে সাজু, সেজান ও এরশাদ গানটাকে তৈরি করলো। আমি গাইলাম। এরপর আসলে কখনো গানটাকে বড় মনে হয়নি। গানের মাঝে কেটে ফেললে অপূর্ণতা থেকে যেত।
রাত প্রায় ৮টা। প্যাডের নির্ধারিত সময় প্রায় শেষ। ব্যান্ডের সদস্যরাও শেষ প্র্যাকটিস সেরে ফিরে যাবে। বিদায়ের আগ মুহূর্তে বাজছে ব্যান্ডটির জনপ্রিয় গান ‘দুঃখ বিলাস’।
এখন সবকিছু ডিজিটাল হয়ে গেছে। মোবাইলেই সবাই যোগাযোগের কাজ সেরে নিচ্ছে। এই চর্চার পরিবর্তন দরকার।—রিয়াজ
এখন গান তৈরি করার চর্চাটা কমে গেছে। আমার কাছে এই কারণটাই মুখ্য মনে হয়।—তিতাস
