রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ড দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা-এমন প্রশ্ন এখন অনেকের। স্টোর রুমে আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শী হাসপাতালের দুই কর্মচারী ইত্তেফাককে জানান। ওই স্টোর রুমে থাকা হাসপাতালের কেনাকাটার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। জানা গেছে, কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক গোপনে তদন্ত করছিল। সম্প্রতিকালে দুদকের পক্ষ থেকে যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন সামগ্রি কেনাকাটার কাগজ চাওয়া হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আউটসোর্সিং, পথ্য, যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন কেনাকাটা নিয়ে প্রভাবশালী ঠিকাদার ও তাদের সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। শুধু সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল নয়, এর আশপাশের সরকারি ১০টি হাসপাতাল এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি। সব ধরনের টেন্ডার তারাই নিয়ন্ত্রণ করেন-এটা অনেকটা ওপেন সিক্রেট। ২০০৮ সাল থেকে এখানকার ক্যান্টিন ও ফার্মেসিও তাদের দখলে রয়েছে। সিন্ডিকেটের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ১৯৯৫ সালে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের বারান্দায় সিন্ডিকেটের একজন সদস্য কাজী জরিপকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে ফায়ার সার্ভিস। তারা তদন্ত করে যে রিপোর্ট দেবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, শিশু বিভাগ থেকে আগুনের সূত্রপাত। তবে প্রত্যক্ষদর্শী দুই জন ইত্তেফাককে বলেন, নিচ তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
