ভোট বাতিল চেয়ে বিএনপির ৭৪ প্রার্থীর মামলা

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৩:০৫

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে ভোট বাতিল চেয়ে ঢাকাসহ আটটি বিভাগের বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে ৭৪টি মামলা করেছেন। মামলার আবেদনে নির্বাচনে কারচুপি, জালিয়াতি ও ভোট ডাকাতির অভিযোগ আনা হয়েছে। আবেদনে তিনটি বিষয়ে প্রতিকার চাওয়া হয়েছে, তা হলো- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল ঘোষণা, নির্বাচনে যিনি বিজয়ী হয়ে এসেছেন তার ফল বাতিল করা এবং পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। মামলায় নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং অফিসার, সংশ্লিষ্ট আসনের বিজয়ী প্রার্থী এবং নির্বাচনে অংশ নেয়া অন্যান্য পরাজিত প্রার্থীকে বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচন নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো ইতোপূর্বে নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সরকারের একাধিক মন্ত্রী বলেছেন যে নিজেদের ভুলের কারণেই বিএনপি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে।

গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৭৪টি মামলা করেন বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পরাজিত প্রার্থীরা। এ ছাড়া আরো কয়েকটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী এসব মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তারা জানান, নির্বাচনী মামলা শুনানির জন্য হাইকোর্টে ৬টি ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। যথাসময়ে এসব ট্রাইব্যুনালে মামলাগুলো শুনানির জন্য উত্থাপন করা হবে।

বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোট ডাকাতির মতো ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনো হয়নি। নির্বাচনের আগের রাতে প্রায় ৮০ ভাগ ভোটের বাক্স পূরণ করে রাখা হয়। এ ছাড়া অনেক কেন্দ্রে শতভাগ ভোট গ্রহণ হয়েছে; যা হাস্যকর। অনেক কেন্দ্রে মৃতলোক ভোট দিয়ে গেছে এ ধরনের তথ্য রয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ছিল সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভোটের আয়োজন করা। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনে কমিশন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

যারা মামলা করেছেন:ঢাকা-২ আসনের ইরফান ইবনে আমান অমি, ঢাকা-৬ সুব্রত চৌধুরী, মানিকগঞ্জ-৩ মফিজুল ইসলাম খান কামাল, কুড়িগ্রাম-২ মেজর জেনারেল আ আ সম আমিন, চট্টগ্রাম-১৫ আব্দুল মোমেন চৌধুরী, ঝিনাইদহ-৪ সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, টাঙ্গাইল-৭ আবুল কালাম আযাদ সিদ্দিকী, বরিশাল-৩ জয়নুল আবেদীন, সিরাজগঞ্জ-২ রুমানা মাহমুদ, বরিশাল-১ জহির উদ্দিন স্বপন, গাজীপুর-৪ শাহ রিয়াজুল হান্নান, মৌলভীবাজার-৩ নাছের রহমান, মুন্সীগঞ্জ-৩ আব্দুল হাই, ভোলা-২ হাফিজ ইব্রাহিম, পিরোজপুর-৩ রুহুল আমি দুলাল, ঢাকা-১৯ ডাক্তার দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, ভোলা-৩ হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, কুড়িগ্রাম-৩ তাজভীর উল আলম, রংপুর-৬ মো. সাইফুল ইসলাম, দিনাজপুর-২ মো. সাদেক রিয়াজ, ঢাকা-৭ মোস্তফা মহসীন মন্টু, নারায়ণগঞ্জ-২ নজরুল ইসলাম আযাদ, মানিকগঞ্জ-২ মইনুল ইসলাম খান শান্ত, ঢাকা-৫ নবী উল্লাহ নবী, নরসিংদী-৫ আশরাফ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ-৫ মো. আমিরুল ইসলাম খান, টাঙ্গাইল-১ শহীদুল ইসলাম, পঞ্চগড়-২ ফরহাদ হোসেন আযাদ, লালমনিরহাট-১ মো. হাসান রাজিব প্রধান, চট্টগ্রাম-১৬ মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, দিনাজপুর-৪ মো. আক্তারুজ্জামান মিয়া, চাপাইনবাবগঞ্জ-১ মো. শাহজাহান মিয়া, সুনামগঞ্জ-৫ মিজানুর রহমান, হবিগঞ্জ-৩ মো. জি কে গউছ, মৌলভীবাজার-৪ মজিবুর রহমান চৌধুরী, গাইবান্ধা-৫ ফারুক আলম সরকার, সিলেট-৩ শফী আহমেদ চৌধুরী, নেত্রকোনা-২ মো. আনোয়ারুল হক, জামালপুর-৫ শাহ মো. ওয়ারেস আলী, মাগুরা-২ নিতায় রায় চৌধুরী, যশোর-৩ অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, চট্টগ্রাম-৮ মো. আবু সুফিয়ান, মেহেরপুর-১ মাসুদ অরুন, কুমিল্লা-৬ আমিন উর রশীদ, নোয়াখালী-১ এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, খাগড়াছড়ি শহীদুল ইসলাম ভুইয়া, রংপুর-৩ সাব্বির আহমেদ, ফেনী-১ মুন্সী রফিকুল আলম, নোয়াখালী-২ জয়নুল আবদীন ফারুক, বান্দরবান সাচিং পরু, চাঁদপুর-৩ শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, লক্ষীপুর-২ আবুল খায়ের ভুইয়া, কুষ্টিয়া-৩ জাকির হোসেন সরকার, খুলনা-৩ রকিবুল ইসলাম, ফরিদপুর-২ শ্যামা ওবায়েদ ইসলাম, মাদারীপুর-৩ আনিছুর রহমান, খুলনা-৪ আজিজুল বারী হেলাল, ফরিদপুর-১ শাহ মো. আবু জাফর, চুয়াডাঙ্গা-১ মো. শরীফুজ্জামান, সাতক্ষীরা-১ হাবিবুল ইসলাম হাবিব, রাজবাড়ী-১ আলী নেওয়াজ মো. খৈয়ম এবং ফেনী-৩ আসনের ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী আকবর হোসেন।