সোনারগাঁওয়ে মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলনে বাড়ছে ভাঙনের শঙ্কা

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:২৪

সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদীতে রাতের আঁধারে প্রায় ৩০-৩৫টি শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে প্রভাবশালীরা নদীর তীরবর্তী স্থান ও কৃষিজমি কাছ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে মেঘনাতীরের অনেক গ্রাম ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। ইতিমধ্যে নদীর তলদেশের মাটি সরে গিয়ে উপজেলার খাসেরচর, ভুরভুরিয়া, ভাটিবন্দর ও সুলতান নগর গ্রাম নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। মালিগাঁও, হাড়িয়া, গোবিন্দি হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া সোনামুইসহ কয়েকটি  গ্রাম এবং সেই সাথে মেঘনার তীরে অবস্থিত আমান ইকোনমিক জোন বর্তমানে ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে।

উপজেলার মেঘনা নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা চর নুনেরটেক ও এর তীরবর্তী বালু মহালটির ইজারার উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ স্থগিতাদেশের ফলে ওই এলাকার বালু মহাল ইজারা দিতে পারবে না প্রশাসন। ফলে ওই এলাকার বালু মহালের বালু উত্তোলন করতে না পেরে প্রতিদিন মেঘনা নদীর হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া অঞ্চলের সোনামুই এলাকা থেকে চুরি করে বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে চিহ্নিত প্রভাবশালীরা। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইসমাইল হোসেন তার ছেলে রকি ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য রোবায়েত হোসেন শান্ত একটি সিন্ডিকেট করে সোনামুই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দলের নাম ভাঙিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এসব বালু উত্তোলনকারীর দাপটে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে প্রশাসনও। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও নুনেরটেক ও নলচর এলাকায় মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মিয়ার নেতৃত্বে ইউপি সদস্য আবদুর রহমান ও নুনেরটেক গ্রামের আবুল হাসেমের লোকজন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে থাকে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। জানা যায়, এসব প্রভাবশালী অবৈধভাবে লাখ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে প্রতিদিন গড়ে ১৫-২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সোনামুই মৌজায় মেঘনা নদীতে অন্তত ৩০-৩৫টি শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নুনেরটেক এলাকার অন্তত ২০টি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। রঘুনাথপুর, গুচ্ছগ্রাম, সবুজবাগ ও আশপাশ এলাকার বাড়িঘর এবং ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে কোনোভাবেই ভাঙন রোধ করা যাবে না।

এলাকাবাসী আরো জানান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকালীন উপজেলার সুলতাননগর নামক চরটি স্থানীয় ভূমিহীনদের মাঝে বন্দোবস্ত দেন। ওই সময় থেকে ৬০টি ভূমিহীন পরিবার সুলতাননগর গ্রামে ঘর নির্মাণ করে বসবাস ও জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। নদী থেকে ক্রমাগত বালু উত্তোলনের ফলে সুলতাননগর নামক ওই চরটি মেঘনাগর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। বালু মহাল ইজারা ব্যবস্থা বিধিমালা থেকে জানা যায়, বালু উত্তোলনের সরকারি বিধি অনুযায়ী ‘সূর্য উদয়ের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বালু উত্তোলন করা যাবে। তবে কোনো বসতি, স্থাপনা, ব্রিজ বা কালভার্ট থেকে অন্তত এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনোরকম বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।’ কিন্তু সরকারি সেই বিধান অমান্য করে বালু উত্তোলনকারীরা রাত দিন ৩০-৩৫টি শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে বালু কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

তাদের কথা: কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য রোবায়েত হোসেন শান্ত বলেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে আমি জড়িত না।  রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইসমাইল হোসেন বলেন, মেঘনা নদী থেকে এখন আর বালু উত্তোলন করি না। প্রভাবশালী এক নেতার ছত্রচ্ছায়ায় এই বালু উত্তোলন হয়ে আসছে। তবে তিনি ওই প্রভাবশালী নেতার নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বলেন, ইজারা নিয়েই নলচর এলাকায় বালু উত্তোলন করছি।

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহিনূর ইসলাম বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।