সারা দেশের সড়ক ও মহাসড়কের মাঝে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ যে কোনো ধরনের খুঁটি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। দুই মাসের মধ্যে এসব খুঁটি সরাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বলেছে আদালত। এছাড়া খুঁটি অপসারণের সময় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে চাহিদা মোতাবেক নিরাপত্তা সহায়তা দিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।
এছাড়া সড়ক ও মহাসড়কের মাঝখানে থাকা সবধরনের খুঁটি চিহ্নিত করে তা অপসারণের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সচিব, বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, ডিপিডিসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নরসিংদীর শিবপুর সড়কের উপরেই একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি পোতা ছিল। গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে সিলেট থেকে ঢাকায় ফেরার পথে বিষয়টি নজরে আসে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের। নিজ গাড়ি থেকে নেমে অনিয়মের এই বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আনতে ঘটনাস্থল থেকে ফেসবুক লাইভে আসেন ওই আইনজীবী। পরে ওই খুঁটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরিয়ে নেয়। এরপরই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সড়ক ও মহাসড়কে বিপদজনক অবস্থায় থাকা অসংখ্য খুঁটির ছবি ওই আইনজীবীর মেসেঞ্জারে পাঠাতে থাকে সাধারণ মানুষ। ওইসব ছবি যুক্ত করে বুধবার হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করেন তিনি। রিটে এসব খুঁটি অপসারণের নির্দেশনা চাওয়া হয়। আবেদনের পক্ষে আবেদনকারী নিজেই এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান শুনানি করেন।
শুনানিতে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, সড়ক-মহাসড়কে থাকা এসব খুঁটির সঙ্গে যে কোনো সময় চলন্ত গাড়ির সংঘর্ষ হতে পারে। ফলে প্রাণহানির শিকার হতে পারে অসংখ্য সাধারণ মানুষ। এ কারণে এগুলো অপসারণ করা দরকার।
জবাবে মোখলেছুর রহমান বলেন, অধিকাংশ বৈদ্যুতিক খুঁটি সড়কের পার্শ্বে স্থাপন করা হয়ে থাকে। যদি সড়ক-মহাসড়কে থাকা খুঁটি সরাতে নির্দেশ দেয়া হয় তাহলে বিদ্যুত্ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে। তবে সড়ক-মহাসড়কের মাঝখানে থাকলে সেগুলো অপসারণ করার সুযোগ রয়েছে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট সড়কের ভেতরে থাকা সব খুঁটি অপসারণের নির্দেশ দেয় বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। রিটকারী বলেন, একদিকে সড়কের নিরাপত্তার কথা বলা হচ্ছে আবার মাঝখানে খুঁটি দাঁড় করিয়ে রাখবে এটা হতে পারে না।
