উচ্ছেদ চলবে, সরকারের চেয়ে কোনো ব্যক্তি প্রভাবশালী নয়

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:৪৬

বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষায় চলমান অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পর্কে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বলেছেন, সরকারের চেয়ে প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তি হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আমরা যে উচ্ছেদ কাজ হাতে নিয়েছি সেখান থেকে পিছপা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের কাজ (উচ্ছেদ কার্যক্রম) অব্যাহত থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

একই প্রশ্নের জবাবে খালিদ মাহমুদ বলেন, ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে ঢাকার চারপাশের নদীগুলো এবং চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী রক্ষায় ও এগুলোর দূষণ রোধে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। আজকে যে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে সমগ্র দেশবাসী এটাকে স্বাগত জানিয়েছে। ঢাকার প্রতিটি মানুষ, নদী-গবেষক, পরিবেশবিদ ও গণমাধ্যমও এটাকে স্বাগত জানিয়েছে।

চট্টগ্রাম-৪ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সংসদকে জানান, স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ছোট-বড় সব ধরনের ৬৩৯টি নৌ দুর্ঘটনায় মোট ৪ হাজার ৭৩২ জন নিহত হয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) এমপি মুজিবুল হক চুন্নুর প্রশ্নের জবাবে নৌ প্রতিমন্ত্রী জানান, পাটুরিয়া সেক্টরে ২০টি, শিমুলিয়া সেক্টরে ১৮টি, চাঁদপুর সেক্টরে ৫টি, ভোলা সেক্টরে ৩টি ও লাহারহাট সেক্টরে ৪টিসহ বিভিন্ন ঘাটে মোট ৫০টি ফেরি রয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি পরিচালিত বিভিন্ন রুটে-ঘাটে ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

নওগাঁ-৬ আসনের ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে খালিদ মাহমুদ জানান, নৌ-পথের নাব্যতা রক্ষায় দেশের ২৫টি নদীর ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। পাবনা-১ আসনের শামসুল হক টুকুর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে  বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজের সংখ্যা ৪টি।

পিরোজপুর-৩ আসনের জাপার এমপি রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানান, ঢাকা-বরিশাল রুটে পরিচালনার জন্য বর্তমানে ২টি নতুন যাত্রীবাহী জাহাজ নির্মাণাধীন। এছাড়াও ‘বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক জলযান সংগ্রহ, ৮টি সহায়ক জলযান এবং ২টি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৩টি অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী জাহাজ, ৪টি উপকূলীয় যাত্রীবাহী জাহাজ এবং ৩টি রিভার ক্রুজার নির্মাণ করা হবে।