বাংলা বানানের নিয়ম-কানুন:‘ণ-ত্ব’বিধানের নিয়ম

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৪২

আমরা সাধারণত বাংলা বানানে ‘ন’ এবং ‘ণ’ এর ব্যবহার নিয়ে বিপাকে পড়ি। তাই আজ আমরা আলোচনা করব সহজে কীভাবে’  এর ব্যবহার শিখতে পারি। বাংলা বানানে ‘ণ’  এর ব্যবহার জানতে হলে আমাদেরকে প্রথমেই তত্সম শব্দ সম্পর্কে জানতে হবে।

 

তত্সম শব্দ :তত্সম শব্দ ব্যাকরণের একটি পারি ভাষিক শব্দ। তত্ - অর্থ তার , এবং সম-অর্থ সমান। মানে সংস্কৃতের সমান। বাংলা ভাষা হচ্ছে সংস্কৃতের কন্যা। এই সংস্কৃত শব্দ  চেনার কতগুলো উপায় আমরা দেখে নেই-

ক। প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী ‘ ঈ, ঊ, ঋ এবং এদের কার চিহ্নযুক্ত সকল শব্দই তত্সম। ঈষ, ঊষা,ঋণ, দারুণ।

খ। ‘ ণ’  যুক্ত সকল শব্দই তত্সম। যেমন : তৃণ, চরণ,মরণ।

গ। যে সকল শব্দের আগে- প্র,পরা,পরি, প্রতি,অপ,সম,অব,অনু, নির (নিঃ),দুর (দুঃ),উত্, অধি,অভি,অতি, উপ প্রভৃতি উপসর্গগুলো যুক্ত থাকে সেগুলো তত্সম শব্দ। যেমন:প্রণাম, পরায়ণ, অপসারণ, নির্ণয়, বিবর্ণ, পরিবর্তন।

ঘ। শব্দের শেষে-তব্য এবং অনীয় থাকলে সেগুলো তত্সম। যেমন: দ্রষ্টব্য, করণীয়।

ঙ। চন্দ্র বিন্দু ‘ঁ’ যুক্ত কোনো শব্দই তত্সম নয়। যেমন : চাঁদ, সিঁদুর।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি ও ইন্টারনেট

তত্সম শব্দে ‘ণ’ এর ব্যবহারকেই  ণ- ত্ব বিধান বলে।

এখন আসি “ণ” এর ব্যবহার এ

১। ঋ,র,ষ বর্ণের পরে ণ হয়।

যেমন : ঋণ, রণ, পাষাণ। ঋ,র,ষ বর্ণের পরে য়,ব,হ,ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ণ হয়। যেমন: কৃপণ,গ্রহণ,অর্পণ।

(সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি)

২। ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তত্সম শব্দে ‘ণ’ হয়। যেমন: কাণ্ড, বণ্টন,খণ্ড।

(সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি)

৩। প্র,পরা,পরি,নির উপসর্গের পরে ‘ণ’ হয়। যেমন- প্রণিধান,পরিণাম,পরায়ণ,নির্ণয় পরিণতি। এছাড়াও ‘অন্তর’ শব্দের পরবর্তী শব্দ নদ্, নম্, নশ্, নী,নুদ, অন, ও হন্ ধাতুর ‘ন’ স্থলে ‘ণ’ হয়। যেমন : প্রণাশ,অন্তর্ণাশ

( সূত্র :ভাষা প্রকাশ ব্যাকরণ ও রচনা - অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী, নাজমা জেসমিন চৌধুরী )

৪। বহুবচনবোধক ুগণ,বৃন্দ,মণ্ডলী,বর্গ,আবলি,গুচ্ছ,দাম, নিকর, পুঞ্জ,

মালা, রাজি, রাশি যুক্তশব্দ তত্সম।

যেমন:জনগণ,পুস্তকাবলি,তারকারাজি,বালিরাশি  ।

সূত্র : ইন্টারনেট বিদেশী শব্দ, ত-বর্গযুক্ত শব্দ, ক্রিয়াপদ,পদের শেষে,সমাসবদ্ধ শব্দে- ‘ণ’ হয় না। যেমন: জবান,দন্ত,যাবেন,বর্মন,দুর্নীতি।