জাপানের মস্ত বড় এক কবি। এক রাতে মোমের আলোতে কবিতা পড়ছিল। ডালিম গাছে সিকলা পাখি আর পুকুরে ব্যাঙ ডাকছে। তারাশূন্য আকাশ। চারদিকে মিষ্টি বাতাস। নানা পোকা—গেছো পোকা, সাতরঙা ফড়িং মোমের আলোর দিকে উড়ছে। সবার রঙিন পাখা পুড়ে ছাই। কবির ভীষণ কষ্ট হয়।
‘রাতের ছোট্ট সরল পোকারা’ কবি শুধোয়, ‘আলোর খোঁজে কেন মিছিমিছি উড়ে বেড়াচ্ছ? আলোর বদলে প্রাণ হারাবে। বোকার দল, রানি জোনাকির গল্প শোনোনি!’
‘পোকার রাজ্যে সবচেয়ে সুন্দর পোকা রানি জোনাকি। পদ্মফুলে তার বাস। পুকুর জুড়ে পদ্মের মাঝে রানি জোনাকি বেশ আরামেই ছিল। পানিতে যেন তারার ছবি!’
রাতের ছোট্ট প্রাণীরা, রানি জোনাকির অনেক ভক্ত। ‘একটু দয়া করো’, পোকাকুলের কান্না, ‘জলাশয়ের রঙিন আলোকবর্তিকা’। রানি জোনাকি একেবারে চুপ। ভক্তদের কান্না যেন একেবারেই শুনতে পায়নি।
অনেক পরে রানি পোকা বলে, ‘ভক্তরা, কেন পদ্মপুকুরে ভিড় করছ? শীঘ্র আলো নিয়ে এসো।’
‘পোকার দল তখনই বেরিয়ে পড়ে আলোর খোঁজে।
আলোভরা এক কুঁড়েঘরে পোকাকুল দেখে এক করুণ দৃশ্য। কুঁড়ের এক কোণে কাঁদতে কাঁদতে এক কিশোরী মোমবাতির আলোয় বাবার চিঠি পড়ছে। আর এক ঘরে আয়না সামনে সাজছে এক নারী। পোকার ডানার ঝাপটায় আলো প্রায় নিবু-নিবু।
নারী ভীত গলায় বলে, ‘কী ভীষণ অন্ধকার!’
আরেক জায়গায় এক ভিক্ষুকের কান্না, ‘দোহাই, মোমবাতিতে একটু আলো দাও।’
সকালে রাজ্যময় রাস্তাঘাটে দেখা যায় শত শত পোকা।
রানি জোনাকি একেবারে ভুলে গেছে আলো-সন্ধানী পোকাদের কথা।
পোকাকুলের বোকামিতে রানি জোনাকির কী ভীষণ হাসি!
‘পোকার দল, রানি জোনাকি এতটুকুও বদলায়নি’, কবির চিত্কার।
কবির বারণ সত্ত্বেও পোকারা আলোয় ঝাঁপ দিচ্ছে।
মোমবাতি নিবিয়ে অন্ধকার ঘরে নিরুপায় কবি ভাবে, ‘এই বেশ ভালো।’
রূপান্তর : কুতুব আজাদ
