দেশে উত্পাদিত উচ্চমূল্যের মসলা জাতীয় ফসল একাঙ্গী চাষে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। বর্তমানে আমাদের দেশে সীমিতভাবে একাঙ্গীর চাষ হচ্ছে। স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে অধিক লাভবান হওয়া যায় একাঙ্গী চাষ করে। এই একাঙ্গী সম্পর্কে দেশের সাধারণ মানুষ তেমন অবগত নন। একাঙ্গী আদা জাতীয় ফসল। একাঙ্গীকে ভুঁইচম্পা বা একানি বলা হয়ে থাকে। এর বৈজ্ঞানিক নাম ক্যানফোরিয়া গ্যালাঙ্গা। ইংরেজিতে এ্যারোমেটিক জিনজার বলা হয়। আদা, হলুদ গোত্রের ফসল এটি। আমাদের দেশে গ্রামীণ মহিলারা মাংস রান্না করার সময় মসল্লা হিসেবে একাঙ্গী ব্যবহার করে থাকেন। মাছ ধরার জন্য যে চারা তৈরি করা হয় সেখানে ও এই একাঙ্গী ব্যবহার করা হয়। একাঙ্গীর বেশ সুঘ্রান রয়েছে।
একাঙ্গী দিয়ে সুগন্ধী কসমেটিক তৈরি করা হয়ে থাকে। মহিলারা রূপচর্চায় একাঙ্গী ব্যবহার করে থাকেন। তাছাড়া একাঙ্গী মানবদেহের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ওষুধ হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে পেটের পীড়ায় একাঙ্গী দ্রুত কাজ করে। বর্তমানে আমাদের দেশের উত্তর বঙ্গের কিছু কিছু এলাকায় বেশ কিছু আগ্রহী কৃষক সীমিত আকারে একাঙ্গী চাষ করছেন।
কৃষকরা জানান একাঙ্গী চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। বীজ বপনের এগার মাস পর মাঠ থেকে ফসল তোলা যায়। একাঙ্গী চাষে তেমন মূলধনের প্রয়োজন পড়ে না। একবিঘা জমিতে একাঙ্গী চাষ করতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাগে। প্রতিবিঘা জমিতে ৮০ থেকে ১০০ মণ একাঙ্গী উত্পন্ন হয়। একবিঘা জমিতে ৬ মণ বীজ লাগে। প্রতিমণ বীজের দাম প্রায় তিন হাজার টাকা। নির্ধারিত দূরত্বে বীজ বপন করতে হয়। একাঙ্গী চাষে তেমন একটা শ্রম দিতে হয় না। মাঝে-মধ্যে ক্ষেতে নীড়ানি দিলেই চলে।
একাঙ্গীর জমিতে খুব সামান্য পরিমাণে সার লাগে। জমি থেকে ফসল তোলার পর প্রতিমণ একাঙ্গী বিক্রি হয় ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা। একাঙ্গীর বেশ চাহিদা রয়েছে। এক বিঘা জমিতে একাঙ্গী চাষ করে প্রায় এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা লাভ হয়। হাল্কা ছায়াযুক্ত স্থানে একাঙ্গী চাষ করতে হয়। কারণ নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় না থাকলে একাঙ্গী উত্পন্ন হবে না। খোলা জায়গায় একাঙ্গীর চাষ হয় না। এর গাছ বেশি তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না। বর্তমানে আমাদের দেশে পেয়ারা বাগানগুলোর মাঝখানে যে সমস্ত খালি জায়গা পড়ে আছে সেখানে একাঙ্গীর চাষ হচ্ছে। পেয়ার বাগানের মালিকরা সহযোগী ফসল হিসেবে একাঙ্গীর চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন।
