একটি গ্রাম একটি শহর বাস্তবায়নে কাজ করছে গোপালপুরের স্কাউট

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৩০

সরকারের এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে গৃহিত ‘একটি গ্রাম একটি শহর’ প্রকল্প বাস্তবায়নে সাফল্যজনকভাবে দায়িত্ব পালন করায় সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে গোপালপুর উপজেলা স্কাউট। জানা যায়, এবারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী ইস্তেহারের প্রথম দফা ছিল ‘একটি গ্রাম একটি শহর’। এর মাধ্যমে সরকার প্রতিটি গ্রামকে শহরে পরিণত করতে চায়। এজন্য সড়ক, গ্যাস, বিদ্যুত্, শিল্প-কারখানা বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণের আগে গ্রামের ইতিবাচক সামাজিক অবকাঠামো, প্রগতিশীল ও মানবিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। দূর করতে হবে নানা কুসংস্কার, অপরাধ, মাদক, যৌতুক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ। আর এই ইতিবাচক সামাজিক অনুশাসন রক্ষায় দক্ষতা দেখাচ্ছে গোপালপুর স্কাউট। উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় স্কাউট আন্দোলন এখন সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ স্কাউট গোপালপুর উপজেলা শাখার সম্পাদক এবং ডুবাইল আদর্শ গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউজ্জামান শিকদার জানান, উপজেলায় হাই স্কুল ও মাদ্রাসায় ৬৭টি দলে দুই হাজার ১৪৪জন স্কাউট, ১৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই হাজার ৬১৬ জন কাব এবং ৮টি কলেজের ৮টি দলের ২৫৬ জন রোভার স্কাউট রয়েছে। এরা জাতীয়ভাবে প্রশিক্ষিত এবং স্কাউট আন্দোলন ও কার্যক্রমকে লেখাপড়ার পরিপূরক হিসাবে গ্রহণ করেছে।

স্কাউট আন্দোলনের ফলে গোপালপুর উপজেলা এখন অনেকটাই বাল্যবিয়ে মুক্ত। যৌতুকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানোর কাজে উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করছে। মাদক নিরাময় ও প্রতিরোধে পুলিশের সঙ্গে কাজ করছেন তারা। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার চেয়ে মানুষকে মোটিভেশন করা হচ্ছে অবিরাম। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযানের মাধমে শহর ও মহল্লাকে জঞ্জালমুক্ত রাখার নমুনা দেখাচ্ছেন। ইভটিজিং, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের কুফল নিয়ে ক্যাম্পেইন, র্যালি, মানববন্ধন এবং সামাজিক অনাচার ও অবিচার নিয়ে নাট্যদল গঠন ও নাটিকা মঞ্চত্ব করা হচ্ছে নিয়মিত। মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও পতাকার মর্যাদা তুলে ধরার জন্য তাদের ক্যাম্পেইন শিশু-কিশোরদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে। অসহায় ও দরিদ্রদের চিকিত্সা সেবায় সহযোগিতা করা, নির্যাতিত নারীদের পাশে দাঁড়ানো এবং শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন প্রতি বছর। কৃতিত্বপূর্ণ এ কাজের জন্য সাতজন স্কাউট প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে শাপলা পদক লাভ করেছেন।

 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিকাশ বিশ্বাস স্কাউট আন্দোলনের সফলতার কথা স্বীকার করে জানান, আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি জেলা সদরের পৌর উদ্যানে আনুষ্ঠানিকভাবে টাঙ্গাইলকে প্রথম স্কাউট জেলা হিসাবে ঘোষণা করা হবে।