স্মিথ ওয়ার্নারকে স্বরূপে দেখতে চায় অস্ট্রেলিয়া

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৪১

অপেক্ষার প্রহর ফুরোতে শুরু করেছে। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের। এমন সময়ে এই দুই ক্রিকেটারকে স্বরূপে ফিরতে দেখার তর সইছে না কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারের।

বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বর্তমানে নিষিদ্ধ আছেন এই দু’জন। তবে আগামী ২৯ মার্চ তাদের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ দিয়ে আবারো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছেন তারা। ঐ সিরিজ থেকেই স্মিথ-ওয়ার্নারকে পুরনো রূপে দেখতে চান অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম দুই সেরা ব্যাটসম্যান স্মিথ ও ওয়ার্নার। দীর্ঘদিন পর আবারো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছেন তারা। আশা করবো, সেরা রূপেই দেখা যাবে স্মিথ-ওয়ার্নারকে।’

গেল মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বল টেম্পারিং-এর সাথে জড়িত ছিলেন স্মিথ-ওয়ার্নার। তরুণ ক্যামেরন বেনক্রফটকে দিয়ে বল টেম্পারিং করান তারা। পরবর্তীতে নিজেদের কুকীর্তির কথা স্বীকারও করেন স্মিথ-ওয়ার্নার। তাই স্মিথ-ওয়ার্নারকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক বছরের জন্য ও বেনক্রফটকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)।

নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী মাসেই আবারো ক্রিকেট ফিরতে যাচ্ছেন স্মিথ-ওয়ার্নার। সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে ক্রিকেট ফিরবেন তারা। ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে তাদের প্রত্যাবর্তনে বেশ খুশী ল্যাঙ্গার। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের বেশ আগেই দু’জনের এক সাথে ক্রিকেটে ফেরাটা আমাদের জন্য বড় সুসংবাদ। কারণ স্মিথ-ওয়ার্নার দলের অপরিহার্য খেলোয়াড়।’

ঐ সিরিজেই স্মিথ-ওয়ার্নারের কাছ থেকে ভালো পারফরমেন্স আশা করছেন না ল্যাঙ্গার। কেন আশা করছেন না, সেটি বলে দিয়েছেন তিনি, ‘দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামবে স্মিথ-ওয়ার্নার। শুরুতেই তাদের কাছ থেকে বড় কিছু আশা করাটা ভুল হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সাথে মানিয়ে নিতে তাদের সুযোগ দিতে হবে। আমি মনে করি, তারা পেশাদার খেলোয়াড়। তাই মানিয়ে নিতেও খুব বেশি সমস্যা বা দেরি তাদের হবে না।’

স্মিথ-ওয়ার্নার যখনই নিজেদের মেলে ধরুক না কেন, ২২ গজে তাদের কাছ থেকে সেরাটাই দেখতে চান ল্যাঙ্গার। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট মাঠে স্মিথ-ওয়ার্নার কি করতে পারে, এটি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের বড় সুনাম রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে ম্যাচের মোড় ঘুড়িয়ে দিতে পারে তারা। আশা করবো, বিশ্বকাপের আগেই নিজেদের সেরা রূপে ফিরবেন স্মিথ-ওয়ার্নার। আমার মনে হয়, এবার তারা আরও ভয়ঙ্কর রূপে ফিরবে।’ এখান থেকেই শুরু হবে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ মিশন। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ৩০ মে। আগামী এক জুন ব্রিস্টলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রা। আগামী ২৩ এপ্রিলের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া দল নিজেদের বিশ্বকাপ স্কোয়াড চূড়ান্ত করে ফেলবে। মে’র শুরু থেকে ব্রিসবেনের বুপা ন্যাশনাল ক্রিকেট সেন্টারে শুরু হবে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ ক্যাম্প। - বাসস/ক্রিকবাজ