গতকাল বিকালে মোহামেডান যখন মাঠে অনুশীলন করে তখন দলের কোচ আলী আজগর নাসির খুলনায়, কমার্স কলেজের সামনে নিজ বাসভবনে শুয়ে বসে অলস সময় কাটাচ্ছিলেন। মোহামেডান ছেড়ে চলে গেছেন কোচ আলী আজগর নাসির। দলের কর্মকর্তা এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় চলে গেছেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মোহামেডান সাইফ স্পোর্টিংয়ের ম্যাচের পর কোচ নাসির রাতেই ক্লাবকে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি আর থাকবেন না। নাসির বলেন,‘বাবু ভাইকে (ফুটবল ম্যানেজার) জানিয়েছি থাকব না। আমি কাজ করব না।’ নাসির বলেন, ‘এমিলি কোমলকে পাঠিয়ে ছিল আমার কাছে। কোমল আমাকে বলল এমিলি ভাই কথাটা বলতে পারছে না। তখন আমি বললাম আমিতো ব্যাগ গুছিয়ে ফেলেছি চলে যাবো।’ এমিলির কি কথা? জানতে চাইলে নাসির বলেন,‘এমিলির কথায় আমি মোহামেডানে এসেছিলাম। এখন এমিলিতো সরাসরি আমাকে চলে যেতে বলতে পারে না। তাই কোমলকে পাঠিয়ে...। আমি বলেছি আমি এমনিতেই চলে যাচ্ছি, বলার কি আছে।’
নাসির খুব স্বাধীনচেতা একজন কোচ। কারো কথায় চলেন না। কোচিং ক্যারিয়ারে মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে তাঁর ব্যক্তিত্ব সবার জানা। পেশাদার ফুটবলের প্রথম আসরে খুলনা আবাহনীকে নিয়ে ঢাকায় এসে নিজের দক্ষতা দেখিয়ে ছিলেন। তারপর থেকেই দেশের ফুটবল কোচিংয়ে নাসির নিজেকে আলাদা মহিমায় তুলে রেখেছিলেন। স্বাধীনভাবে কাজ করবেন বলেই এই পেশায় এসেছেন। যে কয়টি ক্লাব ফুটবলে কাজ করেছেন তার প্রতিদান দিয়েছেন। মনে করেছিলেন মোহামেডানের মতো খ্যাতনামা সংগঠনে কাজ করে ফুটবল দলটার পিছিয়ে পড়ার বদনাম ঘুচিয়ে দেবেন। সাদা মনে কাজ করতে এসে মানসিক গ্লানি নিয়ে গতকাল ভোরে ক্লাবে ফজরের নামাজ পড়েই খুলনার পথে পা বাড়ান। স্বাধীনমতো কাজ না করতে পারার আক্ষেপ নিয়ে নাসির বললেন, ‘ভীষণ অত্যাচার। আমার কোচিং লাইফে দেখিনি। স্বাধীনমতো কাজ করে যদি না জিততে পারতাম তাহলে কৈফিয়ত নিতে পারত। আমি একটা ম্যাচ (বিজেএমসি ও মোহামেডান) স্বাধীনভাবে কাজ করেছি, ব্যাস বাকিটা আমি নিজেও জানি না। বিজেএমসির ম্যাচের আগে কিছুতেই আমার ফরমেশন অনুযায়ী মাঠে নামতে দেবে না। তারা লোকমান ভাইকে জানায়। আমি যখন জিতলাম তখন বলা হলো লাকিলি জিতেছি। বিজেএমসি ভালো খেলেছে। আমরা খারাপ খেলেছি।’ নাসির বললেন,‘আমি মাঠে, আমিই জানি না খেলোয়াড় চেঞ্জ হয়ে যায়। একটা ম্যাচে আমি কোমলকে একাদশে রাখলাম তারা দিল না। আমার সামনে বিদেশি ফুটবলারদের নিয়ে মিটিং করে আমার সিদ্ধান্ত বদল করে দিল। মিন্টু শেখের বাবা দুই দিন আগে মারা গেছে, সে আনফিট। খোকন ফিট প্লেয়ার। ওরা বলে মিন্টুই খেলবে। হারলাম সাইফের কাছে। কি বলব, আরামবাগের সঙ্গে দল সাজালো দুই সাইডব্যাক নেই। জেনুইন ডিফেন্স না থাকলে গোল খেতেই হবে। এমিলি যদি ভালোই বুঝে তাহলে সে কোচিং করাক। প্লেয়ার চেঞ্জ করে আমি জানি না।’
নাসির বললেন, ‘মাঠে কাকে নামাতে হবে সেটা নিয়েও সিন্ডিকেট রয়েছে। কিছু প্লেয়ার রয়েছে তাদের নামাতেই হবে। এর বাইরে যাওয়া যাবে না। এভাবে তো কাজ করা যায় না।’ স্বাধীনভাবে কাজ করতে গিয়ে বারবার বাধার সম্মুখীন হওয়া কোচ নাসির বললেন, ‘এমিলি প্র্যাকটিস করে না। তাকে নামাতে হবে।’ কোচের চলে যাওয়া নিয়ে গতকাল বিকালে ক্লাব টেন্টে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু এবং এমিলির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাড়া পাওয়া যায়নি।
