বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদোকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরও ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মাদুরো সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ আরিয়েজার সঙ্গে ভেনিজুয়েলা বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত এলিয়ট আব্রামের অন্তত দুই দফা কয়েক ঘণ্টার বৈঠকের কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।
নিউ ইয়র্কে ‘কঠোর গোপনীয়তার’ মধ্যে ওই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয় বলে একটি মার্কিন বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স। আব্রাম ও আরিয়েজার সর্বশেষ বৈঠকটি গত সপ্তাহের সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভেনিজুয়েলার এক নেতা। এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অন্য দেশের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে মত বিনিময় করবেনই, এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। বিশেষ করে যখন আমরা আমাদের দূতাবাস কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে সব ধরনের পদক্ষেপের কথা ভাববো।’
যুক্তরাষ্ট্র মাদুরো প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারেও আগ্রহী বলে ট্রাম্প প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এমনকী মাদুরোর সঙ্গেও, তবে আমরা কেবল তাদের বিদায়ের পরিকল্পনা নিয়েই কথা বলবো।’ ভেনিজুয়েলার সংকট নিরসনে ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়োগ করা দূত আব্রাম অবশ্য এর আগে গত ৭ ফেব্রয়ারি বলেছিলেন, মাদুরোর সঙ্গে সংলাপের সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে।
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং দেশটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও বৈঠকগুলোর কথা স্বীকার করেছেন। এসব বৈঠকে আরিয়েজা মার্কিন দূতকে ‘ব্যক্তিগতভাবে, সরকারিভাবে কিংবা গোপনে’ ভেনিজুয়েলা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এদিকে এক সাক্ষাত্কারে মাদুরো বলেছেন, ‘যদি আব্রাম দেখা করতে চান, তাহলে আমাকে কেবল বলুন কখন, কোথায় এবং কিভাবে সেখানে পৌঁছাতে হবে।’
গত বছরের আগাম নির্বাচনে জিতে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসেন মাদুরো। ওই নির্বাচনকে ‘কলঙ্কিত, অবৈধ’ অ্যাখ্যা দিয়ে জানুয়ারির শেষদিকে সংবিধানের একটি ধারা মোতাবেক নিজেকে ‘ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি’ ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদো। তাত্ক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি তাকে স্বীকৃতি দেয়। মাদুরো বলছেন, গুইদো ওয়াশিংটনের মদদে ভেনিজুয়েলার নির্বাচিত সরকারকে উত্খাতের ষড়যন্ত্র করছেন। ভেনিজুয়েলার নাগরিকদের জন্য পাঠানো আন্তর্জাতিক সাহায্যের চালানও আটকে দিয়েছেন তিনি। পশ্চিমাদের সমালোচনা সত্ত্বেও রাশিয়া, চীনসহ প্রভাবশালী অনেক দেশের সমর্থন এবং সেনাবাহিনীসহ ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সকল প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ক্ষমতায় বহাল তবিয়তে টিকে রয়েছেন বামপন্থি ঘরানার এ নেতা।
