পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস এবং সিপিএমের সঙ্গে সমঝোতার কোনো প্রশ্ন নেই, সেটা জানেন তিনি। কিন্তু বিজেপিকে হটাতে কেন্দ্রে সরকার গড়ার লড়াইয়ে তার ছাপ পড়তে দিতে নারাজ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, এই একই মন্ত্র নিয়ে বিরোধীরা প্রস্তুত হচ্ছেন সব রাজ্যেই। মমতা বলেন, ‘আমাদের রাজ্যে সিপিএম এবং কংগ্রেস আমাদের বিরুদ্ধে লড়বে। আমরাও পুরোদমে লড়ব। পারস্পরিক লড়াই তো গণতন্ত্রের অঙ্গ।’ তার মতে, বিজেপিকে গদিচ্যুত করার প্রশ্নে রাজ্যভিত্তিক লড়াই কোনো বাধা হবে না।
পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও যেখানে যেখানে বিরোধী দলগুলির নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলো হলো দিল্লি, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরালা ও উড়িষ্যা। কংগ্রেসের মতে, তামিলনাড়ু, বিহার, মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে এই সমস্যা হবে না। মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস-এনসিপি জোট প্রায় পাকা। সেখানে কিছু আসন বাম এবং ছোট দলকেও ছাড়া হবে। তবে অন্ধ্রপ্রদেশে চন্দ্রবাবুর সঙ্গে কংগ্রেসের জোটের সম্ভাবনায় জটিলতা রয়েছে। কেরালায় আবার কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। সেখানে সিপিএমের পাশে থেকে এনসিপি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়ছে। সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য উত্তরপ্রদেশে এসপি, বিএসপি এবং আরএলডি জোটের বিরুদ্ধে ৮০টি আসনেই লড়বে কংগ্রেস। প্রিয়াঙ্কার সদ্য রাজনৈতিক অভিষেকে সেখানে নতুন অক্সিজেন পেয়েছে রাহুল গান্ধীর দল। রাহুল মনে করেন, উত্তরপ্রদেশে তারা বিজেপির উচ্চবর্ণের ভোট ব্যাংকে ভাগ বসাবেন। যে মুসলিম ভোট এসপি থেকে বেরিয়ে আসবে, সেটাও কংগ্রেসের ঝুলিতে আসবে বলে মনে করছেন তিনি। নিজেদের মধ্যে ভোট কাটাকাটির সুযোগ নেই। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার
রাহুল বলেছেন মূল লড়াই যেহেতু বিজেপির বিরুদ্ধে, ফলে যে রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলি শক্তিশালী, সেখানে কোনো সমস্যা হবে না। সেখানে কংগ্রেস আলাদা লড়লে বিজেপির ভোটই কাটবে। এর ফলে আঞ্চলিক দলগুলিই লাভবান হবে। তৃণমূল নেতৃত্বও মনে করেন, যে রাজ্যে যে আঞ্চলিক দল বেশি শক্তিশালী, ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী লড়াই হলেও তারাই জিতবে। তবে কংগ্রেস এবং সমমনা অন্য দল উভয়েই যেখানে শক্তিশালী সেখানে সমস্যা হবে। জোট না হলে ভোট ভাগাভাগিতে বিজেপি লাভবান হয়ে যেতে পারে, যেমন উড়িষ্যা বা কেরালা।
পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্বকে মোটামুটিভাবে বলে দেওয়া হয়েছে, তারা গলা ছেড়ে তৃণমূলের বিরোধিতা করতে পারেন। প্রদেশ কংগ্রেস চাইছে বামেদের সঙ্গে জোট গড়তে। সেখানে স্থানীয় নেতারা বসে স্থির করবেন কীভাবে সমঝোতা হবে। জাতীয় স্তরে মমতার সঙ্গে জোট হচ্ছে বলে কংগ্রেস সভাপতির তরফ থেকে প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের কোনোভাবেই বলা হবে না, রাজ্যে মমতাকে রাজনৈতিক আক্রমণ কোরো না। কারণ এটা প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইও বটে।
