দেশের নিম্ন আদালত সমূহে বর্তমানে প্রায় দুই লাখ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ হাজার মামলা পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে আদালতে পড়ে থাকলেও নিষ্পত্তি করা যায়নি। এছাড়া শিশু কর্তৃক সংঘটিত অপরাধে দায়ের করা প্রায় ২৫ হাজার মামলাও আছে নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলা দায়ের বেশি, বিচারক সংকট, সাক্ষী গরহাজিরসহ নানা কারণে দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে না গুরুতর অপরাধের অভিযোগে দায়েরকৃত এসব মামলা। সম্প্রতি এক মামলার শুনানিকালে হাইকোর্ট বলেছে, বিলম্বিত বিচার মানে বিচারকে অস্বীকার করা।
দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতে দায়েরকৃত, নিষ্পত্তিকৃত ও সর্বশেষ বিচারাধীন মামলার পরিসংখ্যান তৈরি করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। নিম্ন আদালত থেকে বিচারকদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে তিন মাস পর পর এ বিবরণী তৈরি করা হয়ে থাকে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দেশের ৯৫টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা ১ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৫টি। শিশু আদালতে বিচারাধীন মামলা আছে ২৩ হাজার ২৪৫টি। তবে শিশু আইনে সংশোধনী আনায় এখন এসব মামলার বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হবে বলে জানান আইন বিশেষজ্ঞরা।
সুপ্রিম কোর্টের পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকার একাধিক ট্রাইব্যুনালে ১১ হাজার ৭৫২টি, চট্টগ্রামে ১৪ হাজার ৭টি, কক্সবাজারে ৭ হাজার ৭৭২টি, নোয়াখালীতে ৬ হাজার ৮৬৪টি ও রংপুরে ৬ হাজার ৩২৮টি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট নিষ্পত্তি হয়েছে ১৮ হাজার ৮৩টি মামলা। ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণ শেষে হত্যা, হত্যা, যৌতুকের জন্য হত্যা, যৌন নিপীড়নের মত গুরুতর অপরাধে দায়ের করা এসব মামলার বিচার শেষ হয়েছে। বিচার শেষে অনেক মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। আবার তদন্তে গাফিলতি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে খালাস পেয়ে গেছে অনেক আসামি। আবার কখনো আদালতের বাইরেও আপোষ হয়ে থাকে। দুই বছর আগে সুপ্রিম কোর্টে জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলনের কর্ম অধিবেশনে জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার ৪০টির বেশি ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা উম্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। সেই আলোচনার প্রেক্ষাপটে প্রস্তুত করা দশ দফা সম্বলিত একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার কারণ হিসেবে ‘মিথ্যা মামলা’ কে অন্যতম সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন বিচারকরা। তবে যৌতুক নিয়ে মিথ্যা মামলা করলে পাঁচ বছরের জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে ‘যৌতুক নিরোধ বিল-২০১৮ জাতীয় সংসদে পাস করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।
হাইকোর্টের স্পেশাল অফিসার ব্যারিস্টার মো. সাইফুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, শুরুতে ৫৪টি ট্রাইব্যুনালে এসব মামলার বিচার চলত। এখন সরকার আরো ৪১টি নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। ফলে মামলার নিষ্পত্তির হার বৃদ্ধি পেয়েছে। আরো ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে মামলা নিষ্পত্তির হার দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন তিনি।
