পাকিস্তানকে একঘরে করার হুমকি দিল্লির

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:২৯

কাশ্মীরে ভয়াবহ গাড়িবোমা হামলার ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে দেশটিকে ‘পুরোপুরি একঘরে’ করে ফেলার হুমকি দিয়েছে নয়াদিল্লি। গতকাল শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুন জেটলি। তিনি বলেন, তার দেশ পাকিস্তানকে একঘরে করতে কূটনীতিকভাবে যা যা করা দরকার তার সবই করবে।

এদিকে, এই হামলার ঘটনায় নিজের পক্ষে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থন পাচ্ছে ভারত। সেদেশ নিযুক্ত পাকিস্তানি হাইকমিশনার সোহায়েল মেহমুদকে গতকাল তলব করে এই হামলার ঘটনায় ইসলামাবাদকে দায়ি করে কঠোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বৃহস্পতিবার জম্মু ও কাশ্মীরে ভয়াবহ হামলায় দায়ী জইশ-ই-মুহাম্মদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পাকিস্তানের উপর চাপ প্রয়োগ করে দিল্লি। ইতিমধ্যে এই হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে পাশে পেয়েছে দিল্লি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে দিতে আহ্বান জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। চীন, ইরান, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরবসহ             মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ এই হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের শাস্তি দাবি করেছে।

কয়েক দশকের মধ্যে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিরা যত হামলা চালিয়েছে বৃহস্পতিবার হামলাটিই তার মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী। এদিন জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) গাড়িবহরে বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি হামলায় ৪৬ জন আধা-সামরিক সেনা নিহত হয়। ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি থেকে সেনাবাহিনীর গাড়ি বহর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ হামলার দায় স্বীকার করেছে। ভারতের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে , দীর্ঘদিন ধরে ওই জঙ্গি গোষ্ঠী পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

গতকাল দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেটলি জানান, ভারত কাশ্মীরে ভয়াবহ এ হামলার জন্য পাকিস্তানকে জবাবহিদি করাতে বদ্ধপরিকর। ১৯৯৬ সালে দেশটিকে দেওয়া ‘মোস্ট ফেভারড নেশনের’ তকমাও তুলে নেওয়া হচ্ছে।

জম্মুতে বিক্ষোভ-সহিংসতা, কারফিউ: এদিকে, এই হামলার জেরে জম্মুতে বিক্ষোভ-সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্তত ১২ জন। পোড়ানো হয়েছে বেশ কয়েকটি গাড়ি। সংঘর্ষে লিপ্ত বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েকটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুক্রবার শহরটির কিছু অংশে কারফিউ জারি করা হয়। তাতেও বিক্ষোভ দমানো যায়নি। শহরের বাস স্ট্যান্ড থেকে শুরু করে বহু স্থানে কারফিউ অগ্রহ্য করে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে জম্মুর কয়েকটি এলাকায় পাকিস্তান বিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভও হয়েছে। গুজ্জর নগর এলাকায় বিক্ষুব্ধরা কয়েকটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। পুলিশের দিকে পাথরও ছুড়ে তারা। পরে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।