যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে অচলাবস্থা (শাটডাউন) ঠেকাতে বিলে সই করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতিমধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা বিল অনুমোদন করেছে প্রতিনিধি পরিষদ। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার এটি পাস হয়। ডেমোক্র্যাটরা মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য প্রায় ১৪০ কোটি ডলার বরাদ্দ দিতে রাজি হয়েছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবির তুলনায় অনেক কম। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের জন্য ৫৭০ কোটি ডলার বরাদ্দ চেয়েছিলেন। বিলটিকে আইনে পরিণত করতে এখন শুধু ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য অপেক্ষা। নতুন শাটডাউন ঠেকাতে শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতের আগেই ট্রাম্পকে স্বাক্ষর করতে হবে সেখানে।
মার্কিন অর্থবছর শুরু হয় ১ অক্টোবর। তার আগেই বাজেট অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও সমঝোতার অভাবে কখনও কখনও মার্কিন কংগ্রেস তা পাস করাতে ব্যর্থ হয়। এমন অবস্থায় অস্থায়ী বাজেট বরাদ্দের মধ্য দিয়ে সরকার পরিচালনার তহবিল জোগান দেওয়া হয়। অস্থায়ী এই বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে দুই কক্ষের অনুমোদনসহ প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের তিন চতুর্থাংশ কার্যক্রম পরিচালনার অর্থ বরাদ্দ করা আছে। বাকি এক চতুর্থাংশের বাজেট বরাদ্দ না হওয়ায় গত ডিসেম্বরে আংশিক শাটডাউনের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের বরাদ্দ প্রশ্নে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় ওই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। বরাদ্দ কম পড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ১৫টি কেন্দ্রীয় দফতরের মধ্যে ৯টিতে আংশিক শাটডাউন শুরু হয়। অবশেষে ১?৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অস্থায়ী বাজেট বরাদ্দের মধ্য দিয়ে গত ২৫ জানুয়ারিতে ৩৫ দিনের সে শাটডাউনের অবসান হয়। এবার সে সময়সীমাও শেষ হতে চলেছে।
মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে জরুরি অবস্থা জারি করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। অবৈধ অভিবাসন রুখতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে সীমান্তে যে কোনো মূল্যে স্থায়ী বেষ্টনী নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ছিল ট্রাম্পের। নির্মাণ কাজ শুরু করতে চলতি বছর কংগ্রেসের কাছে ৫৭০ কোটি ডলারও চেয়েছিলেন তিনি। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে এ নিয়ে মতদ্বৈততায় গত বছরের শেষ থেকে টানা ৩৫ দিন কেন্দ্রীয় সরকারের এক চতুর্থাংশ বিভাগ ও সংস্থায় ‘অচলাবস্থা’ দেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
