গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতনের পর হাত-পা বেঁধে রাস্তায় ফেলে আসলো শ্বশুরবাড়ির লোকজন!

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৩:৫৯

আড়াইহাজারে স্বামী ও  শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাহমিনা (২২) নামে এক গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতনের পর হাত-পা বেঁধে সিদ্ধিরগঞ্জের রাস্তায় ফেলে দিয়ে আসে- এমন নারকীয় ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত তাহমিনাকে শুক্রবার সিদ্ধিরগঞ্জের  জালকুড়ি এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায়  উদ্ধার করে আড়াইহাজার  উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

তাহমিনার বাবা উপজেলার শ্রীনিবাসদী গ্রামের বাসিন্দা আছমত আলী জানান, ৪ বছর আগে তার মেয়ের সঙ্গে গোপালদী পৌরসভার উলুকান্দি গ্রামের সালামের ছেলে আলমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের ঘরে একটি পুত্র সন্তান আসে। এক পর্যায়ে তাহমিনাকে তার স্বামী যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। সংসারে বাড়তে থাকে অশান্তি। সাংসারিক অশান্তির কারণে তাহমিনা মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় স্বামী-শ্বশুর তাহমিনাকে তাদের সংসারে রাখবে না বলে নানা অজুহাত খুঁজতে থাকে এবং  মেয়েটির ওপর নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে তাহমিনা তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন এবং বিগত ৪ মাস যাবত্ তিনি  সেখানেই অবস্থান করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি তাহমিনা তার ছেলে ছিফাতকে (৩) দেখার জন্য শ্বশুরবাড়িতে যান। এরপরই তিনি নিখোঁজ হন।

এদিকে গতকাল শুক্রবার সিদ্ধিরগঞ্জের  জালকুড়িতে  তাহমিনাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখে ওই এলাকার আকতার হোসেন নামে এক ব্যক্তি তাকে তার বাড়িতে আশ্রয় দেন। তাহমিনার পরিচয়  জানার পর তিনি লোক মারফত  মেয়েটির বাবার বাড়ির এলাকার চেয়ারম্যান আমানউল্লাহ আমানকে ফোন করে বিষয়টি জানালে তাহমিনার অভিভাবকরা সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তাকে নিয়ে আসেন এবং আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন। তাহমিনার পায়ে, হাতে, মুখে, মাথায় আঘাতের অনেক চিহ্ন রয়েছে। যন্ত্রণায় কাতর অসহায় এই গৃহবধূ জানান, তাকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন পিটিয়ে হাত-পা বেঁধে সিদ্ধিরগঞ্জে ফেলে রেখে আসে।  আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।