প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, মামলা নেওয়ার আগে একজন আইনজীবীর উচিত মামলার গুণাগুণ বিচার করে মক্কেলকে সঠিক পরামর্শ প্রদান করা। গুণাগুণহীন মামলা গ্রহণ করে অযথা আদালত এবং বিচারপ্রার্থীর অর্থ ও সময় নষ্ট করার মনোভাব থাকা কখনই কারোরই উচিত নয়। তিনি বলেন, আইন পেশার সুমহান মর্যাদা রক্ষা করতে সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে বার ও বেঞ্চকে সোচ্চার থাকতে হবে। সরকারি খরচে আইনি সহায়তা প্রদানের মহান উদ্যোগের পাশাপাশি প্রত্যেক আইনজীবীর উচিত প্রতি মাসে অন্তত দু’একটি মামলা বিনা ফি-তে পরিচালনা করা। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আইনজীবীদের আরও অধিক আগ্রহী হতে হবে। গতকাল শুক্রবার ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহ উত্সব’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী কল্যাণ সমিতি এ উত্সবের আয়োজন করে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রতিটি মামলা পরিচালনায় আইনজীবীর শিক্ষা, মেধা এবং বিচক্ষণতার প্রয়োগ থাকতে হবে। জেনে-শুনে মামলার ঘটনার বিকৃত উপস্থাপনা করা একজন আইনজীবীর কখনই উচিত নয়। সঠিক সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আইনি বিশ্লেষণের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে আদালতকে সহায়তা করা মূল উদ্দেশ্য। একজন ভালো বিচারক এবং আইনজীবী হওয়ার জন্য প্রয়োজন সঠিক আইনি শিক্ষা, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বর্তমান ৯৯ জন বিচারপতির মধ্যে বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিচারপতির সংখ্যা ১৩ জন। বৃহত্তর ময়মনসিংহের জনগণ তাদের এ কৃতী সন্তানদের নিয়ে গর্ব করতে পারে। আইনজীবী এবং বিচারকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিচার বিভাগ এগিয়ে যাবে। বিচারকগণ সমাজের বিবেক হিসেবে আইন অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালনে যে শপথ ও অঙ্গীকার নিয়েছেন তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো সুযোগ নাই। বিচারক বা আইনজীবী কারোরই দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা কাম্য নয়।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি একে এম ফজলুল হক খান ফরিদের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান, হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি এম. বদরুজ্জামান, বিচারপতি মো. আমীর হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।
