জরুরি অবস্থার পথেই গেলেন ট্রাম্প

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:৪১

মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত জাতীয় জরুরি অবস্থা জারির পথেই গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার তিনি এক বিবৃতিতে বলেন,  আমার প্রতিশ্রুত সীমান্ত দেয়ালের জন্য আমি নিশ্চিতভাবেই জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করব। ইতিমধ্যে আমি বিলে সই করেছি। এখন সমালোচকরা যাই বলুন, আমি আমার অবস্থান থেকে নড়ছি না। সীমান্ত দেয়ালের অর্থের জন্য যে কংগ্রেস এতদিন পথ আগলে দাঁড়িয়েছিল সেই কংগ্রেসকে জরুরি ক্ষমতার বলে পাশ কাটাতে পারব।

গতকাল এই ঘোষণা দেয়ার পর ট্রাম্প আরো বলেন ‘এটি অনেক বড় ব্যাপার’। আমার আগেও অনেক প্রেসিডেন্ট প্রয়োজনের সময় এই ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন। অবৈধ অভিবাসন দেশের জন্য এক ধরনের আগ্রসন। এক্ষেত্রে দেয়াল দারুন কাজে আসবে। কংগ্রেস তার আহ্বানে সাড়া না দেয়ায় ‘জরুরি পথ’ ধরতে হয়েছে বলে তিনি জানান।

অবৈধ অভিবাসন রুখতে সীমান্তে ‘যে কোনো মূল্যে’ স্থায়ী বেড়া নির্মাণ ছিল ট্রাম্পের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। নির্মাণ কাজ শুরু করতে চলতি বছর কংগ্রেসের কাছে ৫৭০ কোটি ডলারও চেয়েছিলেন তিনি।  ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে এ নিয়ে মতদ্বৈততায় গত বছরের শেষ থেকে টানা ৩৫ দিন কেন্দ্রীয় সরকারের এক চতুর্থাংশ বিভাগ ও সংস্থায় ‘অচলাবস্থা’ বা শাটডাউন দেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। আরেক দফা অচলাবস্থা এড়াতে কংগ্রেস সদস্যরা দেয়ালের জন্য ১৩০ কোটি ডলার বরাদ্দ দিতে সম্মত হলেও তা ট্রাম্পের মনমত হয়নি। এ কারণেই তিনি জরুরি অবস্থা জারির নির্বাহী ক্ষমতা কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে ডেমোক্র্যাটরা তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ক্ষমতার বড় ধরনের অপব্যবহার এবং বেআইনি কাজ করতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট। তারা প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের আশ্রয় নেবেন বলে জানিয়েছেন।

জরুরি অবস্থা জারির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারে অচলাবস্থার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে একটি ব্যয় বিলেও সই করছেন বলে জানান ট্রাম্প। জানা গেছে, জরুরি অবস্থা জারি হলে প্রেসিডেন্টের হাতে কিছু বিষয়ে অগাধ ক্ষমতা চলে আসে, যা ব্যবহার করে তিনি কংগ্রেসকে পাশ কাটাতে পারবেন। ওই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প সামরিক কিংবা দুর্যোগ খাতের জন্য বরাদ্দ থাকা অর্থ দেয়াল নির্মাণে বরাদ্দ দিতে পারবেন। ফলে দাবিকৃত ৮শ’ কোটি ডলার হাতে পাওয়া ট্রাম্পের জন্য অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।

ট্রাম্পকে থামানো সম্ভব?:ট্রাম্প জরুরি অবস্থা প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে তাকে কি কেউ থামাতে পারবে? বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অ্যাক্টে এ বিষয়ে একটি ধারা আছে যার সারমর্ম হলো, একবার জরুরি অবস্থার ঘোষণা এলে প্রেসিডেন্টকে থামানো কঠিন। কারণ সেক্ষেত্রে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের অনুমোদন লাগবে। এই অনুমোদনই প্রেসিডেন্টকে সীমাহীন ক্ষমতা প্রয়োগে বাধা দিতে পারে। তবে সেখানেও সমস্যা আছে; প্রেসিডেন্ট যদি ভেটো দেন তবে জরুরি অবস্থাই টিকে যাবে। ফলে আপাতত ট্রাম্পকে থামানোর কোনো পথ নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।