চলে গেলেন কবি আল মাহমুদ

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪৫

‘এইজল এই ঝড়/ এই জলতরঙ্গের  খেলা/ মনে হয় শেষ নেই/ আমার তো ফুরিয়েছে বেলা’ (জলতরঙ্গ, কবি আল মাহমুদ)। কবির বেলা ফুরিয়েছে। নিজের লেখা কবিতাই সত্য প্রমাণিত করে বাংলার মাটি, নদী, প্রকৃতির গন্ধ জড়িয়ে কবিতার আলো ছড়িয়ে কবি আল মাহমুদ পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে। গতকাল রাতে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজেউন)।

কতদূর এগোলো মানুষ! / কিন্তু আমি ঘোরলাগা বর্ষণের মাঝে আজও উবু হয়ে আছি।/ ক্ষীরের মতন গাঢ় মাটির নরমে কোমল ধানের চারা রুয়ে দিতে গিয়ে  ভাবলাম, এ মৃত্তিকা প্রিয়তমা কিষাণী আমার। (‘প্রকৃতি’, সোনালি কাবিন)

আধুনিক কবিতায় লোকজ উপাদান ছড়িয়ে দেওয়া কবি আল মাহমুদ পঞ্চাশের দশকের কবিতার অন্যতম প্রধান পুরুষ। তিরিশের আধুনিক কবিরা যখন পাশ্চাত্যের প্রভাবে নাগরিক, নৈর্ব্যক্তিক ও খানিক নিরাশাবাদিতার দ্বারা প্রভাবিত আল মাহমুদ তখন দেশজতা, মানবিকতা, সাম্যবাদ ও এতে লগ্ন থাকার আকুতি জানিয়েছিলেন কবিতায়। বাংলার পাঠক সাদরে গ্রহণ করেছিলেন। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম এ প্রধান কবি চলে গেলেন।

ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতা?লে শুক্রবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে কবির ব্যক্তিগত সহকারী আবিদ আজম জানিয়েছেন। ৮২ বছর বয়সী আল মাহমুদ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। বিশেষ করে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত শনিবার সন্ধ্যার পর এই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল আল মাহমুদকে। প্রথমে সিসিইউ ও পরে আইসিইউতে রেখে তাকে চিকিত্সা দেওয়া হয়। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে আল মাহমুদকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় বলে আবিদ আজম জানান।

গ্রামীণ মানুষের সুখ-দুখ আর শহুরে মানুষের জীবন উঠে এসেছে তার কবিতায়। পিতার মারফতি গানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে পুত্রের শহুরে জীবন গ্রামের মানুষ থেকে আলাদা করার কথা বলেছেন সহজ করে। তার সাহিত্যে নারীর আছে শক্তিশালী অবস্থান।

কাব্য বিলাস-রঙ্গ-সৃষ্টিতে তার উপমা, শব্দের খেলা এবং বক্তব্যের তীক্ষতা বাংলা সাহিত্যকে করেছে ঊর্বর। এছাড়া তিনি লিখেছেন ছোট গল্প, বড়গল্প ও উপন্যাস। ‘সোনালী কাবিন’ যে রকম কবিতার ইতিহাসে তাকে নিয়ে এসেছে অনন্য উচ্চতায়; ঠিক তেমনি ‘পুরুষ সুন্দর’ ‘কাবিলের বোন’ কিংবা ‘পানকৌড়ির রক্ত’ কথা সাহিত্যে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। তাঁর কবিতা ও গল্পের সাবলীল উপস্থাপনা, সহজ শব্দ চয়ন, গল্পের গতি আর বক্তব্যের তীক্ষতা বাংলা সাহিত্যকে দিয়েছে ঐশ্বর্য।