ভাষার প্রতি আমাদের প্রেম একদম খাসা। সুতরাং আমরা ‘খাসা ভাষা প্রেমিক’ এটা জোর দিয়েই বলা যায়। এই খাসা প্রেমিকেরা কাণ্ড কারখানা যা করে, তা বলতে গেলে হাসা ছাড়া উপায় থাকে না।
আমার এক ছোটভাই কথায় কথায় ইংরেজি বলে। যদি যথাযথ ইংরেজি শব্দ খুঁজে না পায়, তাহলে বলে হিন্দি।
আমি তাকে বললাম, ‘বাংলা ভাষা বললে সমস্যাটা কী?’
ছোটভাই বলল, ‘আমার বডির দিকে তাকালেই আপনি বুঝতে পারবেন কেন আমি বাংলাটা বলতে চাই না।’
আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘বডির দিকে তাকালে মানে? বডিতে কী হয়েছে?’
ছোটভাই বলল, ‘আমার শার্ট, প্যান্ট, জুতা এমনটি স্যান্ডো গেঞ্জি পর্যন্ত বাইরের। মানে বিদেশি। আমার সবকিছু যদি ফরেন হতে পারে, তাহলে ভাষাটা লোকাল হবে কেন?’
আমি ছোটভাইকে বললাম, ‘যেহেতু তোর সবকিছুই ফরেন লাগে, অতএব এখন থেকে ভাত-তরকারি না খেয়ে সাপ-ব্যাঙ খাওয়া শুরু করিস। আমি যতদূর জানি আফ্রিকার লোকজন এইসব খায়।’
ছোটভাই ইংরেজিতে কী যেন বলতে বলতে চলে গেল। একটু পরেই দেখা এলাকার এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে। যিনি নিজেকে বিরাট ভাষাপ্রেমিক হিসেবে দাবি করেন। কিন্তু একটা শব্দও ঠিকঠাক উচ্চারণ করতে পারেন না।
আমি তাকে বললাম, ‘দেখেন ভাই, নিজের ভাষার প্রতিটি শব্দ কিন্তু ঠিকভাবে উচ্চারণ করা জরুরি।’
ভাই বললেন, ‘বুঝবার পারছি, ডাক্তার বদলাইতে হইবো।’
আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘উচ্চারণের জন্য ডাক্তার বদলাতে হবে কেন? উচ্চারণ ঠিক করা ডাক্তারের কাজ নাকি?’
বড়ভাই বললেন, ‘তুই যেইটা মনে করতাছস, সেইটা না। বিষয় হইতেছে, কিছুদিন আগে আমি দাঁতের ডাক্তারের কাছ থেইকা দাঁত মেরামত কইরা আনছিলাম। আমার ধারণা, ঠিকমত মেরামত হয় নাই। এই জন্য ঠিকমত উচ্চারণও হয় না। ভালোভাবে দাঁত বসানো হইলে উচ্চারণও ঠিক হইয়া যাইব বইলা আমি মনে করি।’
আমি বড়ভাইয়ের কাছ থেকে বিদায় নিলাম এই বলে, ‘নাচতে না জানলে দাঁত বাঁকা’।
আমার এক ভাবিকে বললাম, ‘এই যে আপনারা কথায় কথায় হিন্দি বলেন, এটা কি ঠিক? অবশ্যই না।’
ভাবি বললেন, ‘ঠিক যে না, এইটা আমরাও বুঝি। কিন্তু কী করবো বলো, মুখ দিয়া খালি হিন্দি চলে আসে।’
আমি বললাম, ‘যতই হিন্দি চলে আসুক, তবু কথা দেন, আর কখনো হিন্দি বলবেন না।’
ভাবি বললেন, ‘ঠিক আছে, কথা দিলাম। আর কখনো হিন্দি বলবো না। কাভি নেহি।’
