গ্যাংস্টার

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৫৮

মফিজ মামা এলাকার সবার প্রিয় মানুষ। কথার প্যাঁচে আপনাকে হাসিয়েই ছাড়বেন। সবাইকে হাসাতে পারেন বলেই তিনি এলাকার সকলের কাছে প্রিয়। কিন্তু ইদানীং বেশ কিছুদিন থেকে তিনি ঘর থেকে বের হন না। সারাক্ষণ ঘরের ভিতর দরজা বন্দ করে বসে থাকেন। আমার বেশিরভাগ সময় মামার সাথেই কাটত। নানুর বাড়ি কাছে হওয়াতেই প্রায় রোজই যাওয়া আসা হতো। বিকেলে মামার সাথে সময় কাটাতাম। কিন্তু ইদানীং তাকে পাওয়াই যায় না। সারাদিন ঘরের দরজা আটকে রাখেন।

ঘটনা এতটুকু থাকলেও কোনো মন্দ ছিল না। কিন্তু মনের ভিতর ভয় ঢুকিয়ে দেয় মামার গ্যাংস্টার হওয়ার কাহিনি। তাও আবার যেনতেন গ্যাংস্টার না, ভয়ংকর খুনিদের গ্যাংস্টার। অবশ্য এ কথা শুধু বড় মামা আর নানির।

যেভাবেই হোক মামার গ্যাংস্টার হওয়ার রহস্য উদঘাটন করতেই হবে। প্ল্যানমাফিক সোমবার দুপুরে হাজির হলাম নানুবাড়িতে। মামা দুপুরে খাওয়া শেষ করে দশ মিনিট হলো রুমে ঢুকেছেন। ইদানীং ভয়ে কেউ মামার সাথে তেমন একটা কথা বলেন না। আস্তে আস্তে মামার রুমের দিকে এগিয়ে গেলাম। দেখলাম রুমের দরজা ভিতর থেকে আটকানো। খুব সাবধানে দরজায় কান লাগিয়ে কিছু শোনার চেষ্টা করলাম।

মামা লাউড স্পিকারে ফোনে কথা বলছেন, ‘কী, মিশন সব ফাইনাল তো?’

—জি ভাই।

—পেছন দিক দিয়া গুলি করবি যাতে পালিয়ে না যেতে পারে।

—জি ভাই।

কথাবার্তা বন্ধ হয়ে গেল। মামা আসলেই গ্যাংস্টার হয়ে গেছেন। না জানি কত নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করছেন দিনদুপুরে। যেভাবেই হোক মামাকে এপথ থেকে সরিয়ে আনতেই হবে।

আস্তে আস্তে বাড়ির পিছন দিকের দেয়াল টপকালাম। খুব সাবধানে মামার ঘরের জানলা দিয়ে উঁকি দিলাম। দেখলাম মামা কানে হেডফোন আর মোবাইল হাতে নিয়ে টেবিলের দিকে মুখ করে বসে আছেন আর বলছেন, ‘তোরে আইজ খাইছি। অই ডানে যা সোজা মাথায় গুলি করবি।’

সাংঘাতিক ব্যাপার! এ তো দেখি ডিজিটাল গ্যাংস্টার! ঘরে বসে অনলাইনে খুন করছে! নিঃশব্দে জানলা টপকে নিচে পা দিতে গিয়ে ধপাস করে পড়ে গেলাম নিচে। মামা তখনো মোবাইল ফোনে মগ্ন। শব্দটা মনে হয় টেরই পাননি। আস্তে আস্তে মামার কাছে গেলাম কিন্তু যা দেখলাম তাতে সত্যিই আবাক ও মর্মাহতই হলাম। মামা কানে হেডফোন গুঁজে পাবজি গেমস খেলছেন। আমি তার পাশে বসেই খেলা দেখতে লাগলাম আর হঠাত্ চিত্কার দিয়ে উঠলাম, ‘ডানে... ডানে... ফায়ার... ফায়ার ইয়েস একদম মাথায় লাগছে!’

বড়লেখা, মৌলভীবাজার।