টিকলু ভাই স্মার্ট ছেলে। তার ফ্যামিলি চট্টগ্রাম থাকে। টিকলু ভাই ঢাকায় পড়াশোনা করেন।
সম্প্রতি বাণিজ্য মেলায় শেষ দিনে সস্তায় কিছু কেনার আশায় উপস্থিত হলেন। সুযোগ বুঝে বেশ কিছু কেনাকাটাও করেছেন, যদিও কিছুই নিজের জন্য না। মেলায় এসে বোনের জন্য ইন্ডিয়ান থ্রিপিস কিনেছেন, বাবার জন্য বিদেশি গার্মেন্টসের শার্ট আর মায়ের জন্য আসবাবপত্র। এখানে আবার একটা কথা আছে, কোনো কিছুই তিনি নিজের টাকায় কিনেননি, সবই যার যার দেওয়া টাকায়।
কেনাকাটা শেষে বের হওয়ার জন্য গেইটের দিকে চলেছেন। চোখে তার নীল সানগ্লাস। হঠাত্ তার নজর যায় এক মেয়ের দিকে। নীল জামা, খোলা চুলে আসছে এই দিকে। ‘সানগ্লাসের জন্য নীল দেখছি না তো?’ এই ভাবনায় পড়ে গ্লাস খুলে কপালে লাগিয়ে ভালো করে দেখছেন তিনি। না আসলেই নীল জামায় এক অপরূপ পরী তার সামনে। আহ! টিকলু ভাই পুরাই ক্রাশিত! চোখ ফেরাতে পারছেন না। সেখানেই দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছেন মেয়ের দিকে। পাছে মানুষ খারাপ বলবে তাই গ্লাসখানাও লাগিয়ে নিলেন চোখে। তাকিয়ে আছেন তিনি, আর ধীরে ধীরে মেয়েটি আসছে তার দিকে। মেয়েটি এদিক সেদিক তাকিয়ে আসছে। হঠাত্ মেয়েটির টিকলু ভাইয়ের সঙ্গে ধাক্কা লাগল। না, টিকলু ভাই ইচ্ছে করে ধাক্কা খাননি। আনমনা টিকলু ভাইয়ের সঙ্গে অসচেতন মেয়েটির দুর্ঘটনা মাত্র। ধাক্কা লাগা মাত্র মেয়েটির ব্যাগ মাটিতে পড়ে যায়। ‘সরি সরি’ বলে টিকলু ভাই ব্যাগখানা তুলে মেয়েটিকে দেন। মেয়েটিও কোনো রিঅ্যাক্ট করেনি। মিষ্টি হাসি দিয়ে ‘ইটস ওকে’ বলে ফিরে যায় গেইট বরাবর। ‘মেয়েটি মেলায় এলো আবার চলে গেল’ এই ভাবনায় সামান্য জড়ালেও হঠাত্ তার ভাবনা মোড় নেয় অন্য দিকে। মেয়েটির হাসি দেখে শিউর হন যে ‘মেয়েটিও আমার ওপর ক্রাশ খেয়েছে’।
আর এই ভাবনা ভেবে নিজেও আবার হাসতে লাগলেন। হাসতে হাসতে তার নজরে পড়ে একটা নীল টি-শার্ট । হুম, টি-শার্টের দোকানের সামনে আছেন তিনি। মেয়ের জামার কালারের সঙ্গে মিলিয়ে কিনতে চাইলেন সেটা। টি-শার্ট নিয়ে টাকা দিতে গিয়ে দেখেন মানি ব্যাগ নেই। এই মাত্রই তো ছিল, ভাবতে লাগলেন কোথায় হারিয়েছেন। ধাক্কা খাওয়ার আগেও মানিব্যাগ পকেটে নিয়ে পাশের দোকান থেকে বের হয়েছিলেন, তার মানে মেয়েটিই কি...? আবার ভাবলেন, তাই বুঝি মেয়েটি মেলায় এসে ধাক্কা খেয়েই তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেল। জিনিসগুলো সেখানে রেখেই দৌড়ে গেলেন মেয়েটির দিকে। গেইট পেরিয়ে একটু হেঁটে দেখলেন একটা সিএনজি নিয়ে চলে যাচ্ছে মেয়েটি।
কিছুটা হতাশ মনে আফসোস না বাড়িয়ে টিকলু ভাইও চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেন। কিন্তু আবার মনে পড়ল কেনাকাটা সব তো মেলার ভিতরে রেখে এসেছেন। কিন্তু এবার টিকিট ছাড়া ঢুকতে পারছেন না। সিকিউরিটিকে বুঝিয়েও কাজ হচ্ছে না। এদিকে পকেটে নেই এক টাকাও। ভাগ্যক্রমে দেখা মিলে এক বন্ধুর। তার টাকায় টিকিট কিনে ভিতরে গিয়ে যে জায়গায় জিনিসগুলো রেখেছিলেন ফিরে যান সেখানে। কিন্তু হায়! কিছুই নেই। চিন্তায় চিন্তিত টিকলু ভাই—টাকা গেল, জিনিসও গেল। এর ওপর জিনিসগুলোও একটাও নিজের টাকায় কেনা না। মা-বাবা মাফ করলেও তো ছোট বোন মাফ করবে না, টাকা বের করে ছাড়বে।
নীলের প্রেমে পড়ে সব গেল তার।
