মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী তিন ছাত্রীকে ইভটিজিং-এর অভিযোগ তুলে দুই কলেজ ছাত্রের বসত ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে লাল মিয়ার নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একদল যুবক। হামলাকারীরা কলেজ পড়ুয়া দুই ছাত্রকে প্রাণনাশেরও হুমকি দিয়েছে। স্থানীয় লোকজন ও একাধিক জনপ্রতিনিধি বলছেন, ইভটিজিং-এর অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট। এটা দুর্বলের উপর উচ্ছৃঙ্খলদের পরিকল্পিত অত্যাচার। এখনো আতঙ্কে রয়েছেন ওই দুই পরিবারের সদস্যরা। হামলার শিকার সাবেক ইউপি সদস্য (সংরক্ষিত) আছমা বেগম ও হাবিবুর রহমান নামের এক বৃদ্ধ। এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সরাইল থানায় শ্লীলতাহানি, মারধর ও চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। উপজেলার চুন্টা গ্রামে গত মঙ্গলবার এ ঘটনাটি ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় লোকজন ও একাধিক জনপ্রতিনিধি জানায়, দুলাল মিয়া, লাল মিয়া ও তার ভাইয়েরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। এরা কারণে অকারণে লোকজনের উপর অত্যাচার নির্যাতন করে। স্থানীয় নেতৃস্থানীয় ও গণ্যমান্য লোকদের কথাও শুনে না। লাল মিয়ার মেয়ে ও ভাতিজিসহ ৩-৪ জন অরুয়াইল কেন্দ্রে এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার পরীক্ষার্থী চুন্টা গ্রামের আল-আমীন (১৫) ভৈরব হাজী আসমত কলেজের সম্মান শ্রেণির ছাত্র সাইদ আনোয়ার বাবুর বিরুদ্ধে ওই ছাত্রীদের ইভটিজিং-করার অভিযোগ তুলে তাদের গোত্রের গাউছ নামের এক যুবক। বিষয়টি শুনেই লাল মিয়া, ফুল মিয়া সহ ৮-১০ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের বাড়ি থেকে এক আধা কিলোমিটার দূরে সাবেক ইউপি সদস্য (সংরক্ষিত আসনে) আছমা বেগম ও হাবিবুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। বাবু ও আল-আমীনকে পেলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী হাজেরা বেগম, হাজী আ. আবদুল খালেক, ডা. আবদুল্লাহ, আলী আহাম্মদ, বাজার কমিটির সম্পাদক মো. ইউসুফ মিয়া ও একাধিক জনপ্রতিনিধি আক্ষেপ করে বলেন, অন্যের প্ররোচনায় মিথ্যা অভিযোগে তারা হামলা ও ভাঙচুর করেছে। তাদের বিচার হওয়া দরকার। লাল মিয়া বসত বাড়িতে হামলার কথা স্বীকার করে বলেন, আমাদের মেয়েদেরকে ওই দুই ছেলে অরুয়াইলে ইভটিজিং করেছে। তারা আগেও তাদেরকে ডিস্টার্ব করত। অভিভাবকদের জানিয়েও কোন বিচার পাইনি। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মফিজ উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে। এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
