ডায়াবেটিক রোগীর ৪০ ভাগ আক্রান্ত কিডনি রোগে

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৪৯

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ৪০ শতাংশ মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়। ডায়াবেটিস একটি নীরব ঘাতক রোগ। এর মাধ্যমে মানবদেহে নানা জটিল রোগ ধারণ করে। ডায়াবেটিসের কারণে মানুষের কিডনি পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। গতকাল শনিবার রাজধানীর মিরপুরে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালের হলরুমে চিকিত্সকদের জন্য আয়োজিত দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বক্তারা এ সব কথা বলেন। ‘ডায়াবেটিক কিডনি রোগ এবং রেনাল প্রতিস্থাপনে মৃত্যু বিষয়ক আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সেমিনার’ আয়োজন করে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এবং রিসার্চ ইনস্টিটিউট। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ।

সেমিনারে জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক বলেন, মানুষ চিকিত্সাসেবা ও ওষুধ কিনতে অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত। অথচ সচেতনতা অবলম্বন করতে চরম অনীহা দেখান। এ কারণে প্রতিনিয়ত দেশে রোগী ও রোগের সংখ্যা বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, মানুষ বাজে অভ্যাস পরিহার, পরিমিত ও ভালো খাবার গ্রহণ এবং পরিমিত শারীরিক পরিশ্রম করার মাধ্যমে সুস্থ থাকতে পারেন। ভালো চিকিত্সা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মতো জরুরি মানুষকে সুস্থ থাকতে সচেতন করে তোলা। এ জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলকে কাজ করতে হবে। এর মাধ্যমে রোগ ব্যাধি হ্রাস পাবে, মানুষকে সুস্থ রাখা সম্ভব হবে।

অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত কিডনি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এর কারণ দেশের অধিকাংশ মানুষ বয়স বাড়লেই ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ কিডনি রোগ আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকের আবার কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পথে। তিনি বলেন, মানবদেহে কিডনি রোগ দেখা দিলে অনেকে বাঁচার আশা ছেড়ে দেন। অথচ উন্নত বিশ্বে ও আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে কিডনি রোগের উন্নতমানের চিকিত্সা ব্যবস্থা চালু হলেও আমরা রয়েছি অনেক পিছিয়ে। দেশে কিডনি প্রতিস্থাপন বা স্থানান্তরে উন্নত চিকিত্সাসেবা দিতে দেশি-বিদেশি দাতা সংস্থার সহায়তায় কিডনি ফাউন্ডেশন এ কার্যক্রম শুরু করেছে। আশা করছি, কিডনি রোগের উন্নত চিকিত্সা ব্যবস্থা সারাদেশে চালু হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে কিডনির রোগ বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যমূলক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সচেতনতার অভাবে মূলত এ রোগের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১ কোটি ৮০ লাখসহ বিশ্বে প্রায় ৮০ কোটি মানুষ এ রোগে ভুগছে। সেমিনারে বক্তারা আরো বলেন, বিশ্বে ২০ লাখ মানুষ কিডনি প্রতিস্থাপন এবং ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে। এর বেশির ভাগই হচ্ছে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে। অন্যদিকে গরিব দেশগুলোতে প্রায় ১শটি দেশে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে না পেরে কিংবা চিকিত্সার অভাবে মারা যাচ্ছে। এ কারণে আমাদের এ রোগের ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়িয়ে এর প্রতিরোধের দিকে বেশি নজর বাড়াতে হবে।

কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এবং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অবঃ) আব্দুল মালিক। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান অধ্যাপক এ কে আজাদ খান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহিবুর রহমানসহ দেশি বিদেশি কিডনি বিষয়ক চিকিত্সকগণ। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি এ সেমিনারের সমাপনী দিন।