আরও সবুজ এই পৃথিবী!

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৫

পৃথিবীতে বনভূমি হ্রাস পাইতেছে, ক্রমশ কমিতেছে সবুজের সমারোহ—এমনটিই আমরা সবসময় শুনিয়া আসিতেছি। কিন্তু যাহা বারংবার শোনা যায় তাহা যে সবসময়ই সত্য হইবে—এমন নহে। বৈশ্বিক বনভূমি সম্পদ পরিমাপের পরিসংখ্যানেও রহিয়াছে নানা মত-পার্থক্য। সর্বশেষ তথ্যানুুযায়ী, পৃথিবীর মোট স্থলভাগের আয়তনের ৩০ শতাংশ বনভূমি। প্রতিবত্সর পৃথিবী যেই পরিমাণ বনভূমি হারাইতেছে, তাহার আয়তন ভুটান, ফিজি এবং ব্রুনাইয়ের মোট আয়তনের সমান—৬২ হাজার বর্গকিলোমিটারের চাইতেও বেশি। বৃক্ষনিধনের ফলে প্রতিদিন পৃথিবী প্রায় ২০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বনভূমি হারাইতেছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ১৯৯০ হইতে ২০০৫ সাল অবধি ১৫ বত্সরে হারাইয়াছে এক কোটি হেক্টর বনভূমি। অর্থাত্ এই অঞ্চলে ১৯৯০ সালের পর বনভূমির পরিমাণ কমিয়াছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। চারদিক হইতে যখন বনভূমি লইয়া এই ধরনের নেতিবাচক খবর দেখিতে আমরা অভ্যস্ত হইয়া পড়িয়াছি, তখন নাসার নূতন একটি খবর সত্যিই চমকাইয়া দেওয়ার মতো। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা গত সপ্তাহে জানাইয়াছে যে, গত ২০ বত্সরে আরো সবুজ হইয়াছে পৃথিবী!

ইহা অতিশয় বিস্ময়ের! কারণ, উষ্ণায়নের জের ধরিয়া যখন তিন-চার ফসলি জমিও উত্তরোত্তর অনুর্বর হইয়া পড়িবার কথা আমরা জানি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষার মৌসুম বদলাইয়া যাওয়ার কথাও শোনা যাইতেছে প্রায়শই। তখন এইসকল খবরের মধ্যেই নাসা জানাইল—বিশ্বের সবুজায়ন ঘটিয়াছে সর্বশেষ দুই দশকে! প্রশ্ন জাগিতে পারে, ২০ বত্সরে বিশ্ব কতখানি সবুজতর হইয়াছে? বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষকের দেওয়া তথ্যানুযায়ী এই সবুজায়নের পরিমাণ প্রায় ২৮ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার—যাহা ঘটিয়াছে মূলত ভারতীয় উপমহাদেশ ও চীনে। আরো একটি বিস্ময়কর তথ্য আমরা পাইয়াছি নাসার এই প্রতিবেদনের মধ্যে। আমরা জানি, সালোকসংশ্লেষণের জন্য গাছে প্রয়োজন হয় কার্বন ডাই অক্সাইডের। শিল্পায়ন বৃদ্ধি পাইবার ফলে বাতাসে গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধি পাইবার ফলে আখেরে লাভ হইয়াছে বৃক্ষপ্রজাতির। কারণ, গ্রিনহাউস গ্যাসের অন্যতম প্রধান উপাদান হইল কার্বন ডাই-অক্সাইড। এই গ্যাসই গাছপালাদের সালোকসংশ্লেষণের চালিকাশক্তি তথা জ্বালানি। সালোকসংশ্লেষণ হইল গাছেদের রন্ধনপ্রক্রিয়া, যাহার সাহায্যে গ্লুকোজ ও অক্সিজেন উত্পাদিত হয়। গবেষকরা বলিতেছেন, বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাইবার ফলে রন্ধনকার্য ভালোই হইতেছে গাছেদের, দ্রুত হূষ্টপুষ্ট হইয়া উঠিতেছে তাহারা। যদিও গবেষকরা ইহাও বলিতেছেন যে, পৃথিবীর উষ্ণায়নের উত্কণ্ঠাকে দূর করিবে না পৃথিবীর এই সবুজায়ন। কারণ, শস্যের ফলন, উত্পাদন, দীর্ঘ সময় ধরিয়া তাহার সুস্থ-সবল থাকিবার প্রক্রিয়াটি নির্ভর করিয়া থাকে জমির উর্বরতা, তাপমাত্রাসহ আনুষঙ্গিক কিছু জরুরি বিষয়ের উপর।

প্রকৃত অর্থে, নির্দিষ্ট বা সংরক্ষিত বনভূমিই আমাদের জগেক কেবল সবুজ করিয়া তোলে না। আবাস-সংলগ্ন ভূমিতে বৃক্ষায়নের ঘটনা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাইয়াছে গত কয়েক দশকে। আমাদের চারপাশটা সবুজ করিয়া তুলিবার প্রবণতা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাইয়াছে অনেক বেশি। ইহাও এই বিশ্বকে সবুজায়ন করিবার ক্ষেত্রে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখিয়াছে। সুতরাং এই আশাবাদ ব্যক্ত করাই যায় যে, আমাদের প্রতিটি ছোট ছোট ইতিবাচক কর্মকাণ্ডই নূতন করিয়া বাঁচাইয়া তুলিবে এই সবুজ ধরিত্রীকে।