আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জামায়াত এখনো ক্ষমা চায়নি। আর ক্ষমা চাইলেও যুদ্ধাপরাধের চলমান বিচার বন্ধ হবে না। গতকাল শনিবার সকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরো বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরে জামায়াত ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি এখন কেনো সামনে নিয়ে আসছে, তা পরিষ্কার নয়। এটা তাদের রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে।
তিনি বলেন, আব্দুর রাজ্জাকের পদত্যাগের মধ্যদিয়ে জামায়াত কোনো চাল চালছে কি না, তা বুঝেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যুদ্ধাপরাধের বিচার ও নিবন্ধন হারিয়ে চাপে থাকা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রাজ্জাক শুক্রবার যুক্তরাজ্য থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একাত্তরে দলের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়ার কথাও বলেছেন রাজ্জাক। সেই সঙ্গে জামায়াতকে নতুন আঙ্গিকে সাজানোর প্রসঙ্গ তুলেছেন।
জামায়াত ক্ষমা চাইলে আওয়ামী লীগ সাধুবাদ জানাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা এখনও আলাপ-আলোচনার মধ্যে, গুজব-গুঞ্জনের মধ্যে সীমিত আছে। তারা অফিসিয়ালি কিছু বলেনি, ক্ষমাও চায়নি।’ জামায়াত নতুন নামে এলে আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া কি হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো সিদ্ধান্তই এখনও নেয়নি। নতুন নামে একই আদর্শের রাজনীতি এলে বর্তমানের সাথে তার পার্থক্য কোথায়?’ জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাস্তবতা হলো এখনও শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প আমাদের দলে নেই। তার কোনো বিকল্পও সমসাময়িক বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেই। পঁচাত্তর পরবর্তীকালে গত ৪৩ বছরে তাকে কেউ অতিক্রম করতে পারেনি। তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ ও সবল থাকলে তার বিকল্প ভাবার দরকার নেই। এর আগেও তিনি বিদায় নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের দলের কাউন্সিলর এবং নেতা-কর্মীদের চাপের মুখে তিনি ঘোষণা দিয়েও সরে যেতে পারেননি। তিনি ছাড়তে চাইলেও নেতা-কর্মীরা ছাড়বে কি না, সেটাও ভাবনার বিষয়।
চাকরির বয়স প্রসঙ্গ:‘আগামী মাসে চাকরিতে আবেদনের বয়স ৩৫ বছর করে দেওয়া হবে’ এমন খবরকে স্রেফ গুজব উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ ধরনের কোনো কথা তিনি বলেননি। বিভিন্ন মাধ্যমে যে খবর প্রকাশ করা হয়েছে তার সত্য নয়।’ সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে তিনি এ ধরনের কথা বলতে পারেন না। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এস এম কামাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
