কেরাণীগঞ্জে পুলিশের উপস্থিতিতে নারীকে মারধর ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:২১

ইত্তেফাক রিপোর্ট

কেরাণীগঞ্জের শাক্তা ইউনিয়নের মধ্যচর পাড়ার শিশু অপহরণের ঘটনা সাজিয়ে একটি দোতালা বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে দুর্বৃত্তরা ওই বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বলে অভিযোগে প্রকাশ। পরে বাড়ির গৃহকর্ত্রী লাইজু আক্তারকে (৩৮) মারধর করে। পুলিশ বলছে, গৃহকর্ত্রী ওই শিশুকে অপহরণ করেছিলেন। অপহূত শিশুকে উদ্ধার করতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার দুই ঘন্টা পর অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে জনতার রোষানল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বিকাল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত। পরবর্তীতে ওই শিশুর বাবা আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে লাইজুকে আসামি করে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় বৃহস্পতিবার অপহরণ মামলা করেন। একই দিনে লাইজুর একমাত্র মেয়ে জান্নাতুল ফৌরদৌস স্বর্ণা বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মামলা করেন। বর্তমানে লাইজুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। আব্দুল মান্নানের দায়ের করা মামলায় পুলিশ তাকে আটক দেখিয়েছে। লাইজু আক্তার বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের একজন নেত্রী।

গতকাল লাইজু আক্তারের মেয়ে স্বর্ণা জানান, বুধবার দুপুরে ইসমাইল নামে ৩ বছরের শিশুটি তাদের বাড়িতে আসে। তাদের বাসায় পোষা কুকুর ও বিড়াল ছানার সঙ্গে খেলা করতে থাকে। শিশুটি তাদের বাড়ির সামনে টিনশেড বস্তিতে তার বাবার সঙ্গে থাকে। তার মা বিষয়টি দেখে নিষেধ করেননি। কিন্তু সন্ধ্যার পর ওই বাসায় অর্ধশত মানুষ প্রবেশ করে। তারা চিত্কার করে বলতে থাকে যে শিশুটিকে তার মা অপহরণ করেছে। এসব কথা বলে বাড়ির জিনিসপত্র ভাংচুর শুরু করে। স্বর্ণা আরো বলেন, বাড়িতে প্রবেশ করা ব্যক্তিরা আনোয়ার চেয়ারম্যানের লোকজন। তারা বাড়ির জিনিসপত্র লুটপাট করে। রাত ৯ টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মো: জুবায়ের বলেন, ভাকুর্তা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ওই নারীর বারতম স্বামী ছিলেন। তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। আবার আনোয়ার হোসেনেরও একাধিক স্ত্রী রয়েছে। এই ঘটনায় দায়ের করা দুইটি মামলা তদন্ত করা হচ্ছে। গতকাল ভাকুর্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, লাইজু এক সময় আমার স্ত্রী ছিলেন। তার সঙ্গে আমার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। ওই ঘটনার সঙ্গে তার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।

লাইজু আক্তারের ছোট ভাই মোহাম্মদ হান্নান অভিযোগ করেন, আনোয়ার চেয়াম্যান তার বোনের চার কাঠা জমির ওপর নির্মাণ করা দোতালা বাড়ি দখল করতেই পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।