ফুলবাড়ীতে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৬:৪৮

আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবসসহ জাতীয় দিবসগুলোতে শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও তাদের আত্মার প্রতি মাগফেরাত কামনা করা হয়। অথচ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। ফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ভাষা আন্দোলনসহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে অনেকাংশে অজানাই থেকে যাচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় মোট ১৯৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৩৫টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩৩ টি, মাদ্রাসা ১৫ টি, কলেজ ৬টি, টেকনিক্যাল কলেজ ২টি, ডিগ্রি কলেজ ৩টি। এর মধ্যে ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেগুলো হল ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজ, কাশিপুর ডিগ্রি কলেজ, বালারহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শিমুলবাড়ী মিয়াপাড়া নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, গংগাহাট এম এ এস উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তর কুটি চন্দ্রখানা উচ্চ বিদ্যালয়, বেড়াকুটিহাট উচ্চ বিদ্যালয়, বড়ভিটা উচ্চ বিদ্যালয়, রাবাইতারী এসবি উচ্চ বিদ্যালয়, বড়লই উচ্চ বিদ্যালয়, নগরাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় তারা নিজস্ব অর্থায়নে শহীদ মিনার করেছে এবং তারা বিভিন্ন জাতীয় দিসবসহ সভা সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন করে থাকে।

আরো পড়ুন: পুত্রের চিকিৎসার খোঁজ নিতে এসে ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে লাশ হলেন পিতা

এ ব্যাপারে উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডা মজিবর রহমান বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। এমনকি অনেক নামধারী প্রতিষ্ঠানেও শহীদ মিনার নেই। বিষয়টি খুব দুঃখজনক। সরকার ইচ্ছা করলে প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা বরাদ্দ দিলে সকল প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভব। শহীদ মিনার থাকলে তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।’

এ বিষয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস ছালাম জানান, ‘ইতিমধ্যেই যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, সেই সব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য তালিকা করে জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে যারা করেছেন তারা তাদের নিজস্ব অর্থায়নে করেছেন। আশা করছি সরকারিভাবে শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাছুমা আরেফিন জানান, ‘যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শহীদ মিনার নেই, আমরা খুব দ্রুত সময়ে তালিকা করে শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে শিক্ষা অধিদপ্তরে তালিকাটা প্রেরণ করা হবে। আশা করি যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপন করা হলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও ভাষা আন্দোলনসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে।’

ইত্তেফাক/বিএএফ