ইত্তেফাক রিপোর্ট
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০১৯ পালন উপলক্ষে গতকাল রবিবার নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার সভাপতিত্বে এ সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণসহ আশপাশ এলাকায় ডিএমপির গৃহীত নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে— কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণসহ আশপাশের এলাকাজুড়ে পর্যাপ্তসংখ্যক অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রতিটি প্রবেশ গেটে পর্যাপ্তসংখ্যক আর্চওয়ে স্থাপন করা এবং আগত দর্শনার্থীদের হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর দ্বারা দেহ তল্লাশি ও হ্যান্ড ব্যাগ চেকিংয়ের আওতায় আনা, মহিলাদের দেহ তল্লাশির ক্ষেত্রে প্রতিটি গেটে পর্যাপ্তসংখ্যক নারী পুলিশ মোতায়েন রাখা, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও এর আশপাশ এলাকায় অধিকতর নিরাপত্তার লক্ষ্যে পর্যাপ্তসংখ্যক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা, স্থাপিত সিসিটিভিসমূহ ২৪ ঘণ্টা শহীদ মিনারের পার্শে স্থাপিত অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে পর্যবেক্ষণ করা, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকা বোম্ব ডিসপোজাল টিম এবং ডগ স্কোয়াড দ্বারা সুইপিং করা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ বিশেষ নজরদারির আওতায় আনার লক্ষ্যে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা।
এ ছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে আরও রয়েছে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৃথক পৃথক প্রবেশ ও বহির্গমন গেটের ব্যবস্থা রাখা, হকার উচ্ছেদের জন্য পুলিশের আলাদা টিম মোতায়েন থাকবে, বিদেশি রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক ও নাগরিকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে, থাকবে ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার টেন্ডার-অ্যাম্বুলেন্স ও লাইটিং ইউনিট, শহীদ মিনার এলাকায় মিডিয়া কর্ণার তৈরি করা।
২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পাস/আইডি কার্ড ব্যতীত প্রবেশ নিষিদ্ধ করা, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ সমগ্র এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ করা, শহীদ মিনার এলাকায় ১০টি ভ্রাম্যমাণ টয়লেট ও মহিলাদের জন্য অতিরিক্ত ২টি ভ্রাম্যমাণ টয়লেট স্থাপন করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, শহীদ মিনারের আগত জনসাধারণের তৃষ্ণা মেটাতে কমপক্ষে ১০টি স্থানে বিশুদ্ধ খাবারের পানির ব্যবস্থা করবে ওয়াসা ও প্রস্তুত থাকবে মেডিক্যাল টিম।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও ডাইভারশন ব্যবস্থা- একুশে ফেরুয়ারি উপলক্ষে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট স্থানে ব্যানার, দিকনির্দেশক সাইনবোর্ড স্থাপন করা এবং ডাইভারশন ব্যবস্থা করা, মহান একুশে ফেব্রুয়ারি পূর্বের দিন অর্থাত্ ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা হতে ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
মহান একুশে ফেব্রুয়ারি পালনে ডিএমপি কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা সম্পর্কে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিতব্য প্রেস বিফ্রিংয়ে বিস্তারিত জানাবে ডিএমপি কমিশনার।
