বে ক্সি ট সমঝোতার শেষ চেষ্টায় ব্রিটেন

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৩

বরকতুল্লাহ সুজন

 

সমঝোতা হোক আর না হোক, আগামী ২৯ মার্চ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হবে যুক্তরাজ্য। যেখানে এখন পর্যন্ত লাভ-ক্ষতির হিসেব কষছে ব্রিটেন। তাতে দেখা গেছে, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের মেয়াদ আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ব্রেক্সিট পরবর্তী সম্পর্কের নানা ইস্যুতে দুই পক্ষ সঠিক কর্মকৌশল ঠিক করতে না পারলে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি। এখন পর্যন্ত সেই সমঝোতায় মরিয়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে; কিন্তু সমস্যাটা হলো বিরোধী পক্ষকে রাজি করানো। থেরেসা মের সাথে ইইউ সমঝোতায় আসলেও তা হাউস অফ কমনসে নাকচ হয়। একাধিকবার ব্যর্থ হওয়ার পর এবার শেষ চেষ্টায় অবতীর্ণ হয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এবার যাতে পার্লামেন্টের অনুমোদন মেলে!

এরই মধ্যে আইনমন্ত্রী ডেভিড গক সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সমঝোতা বা চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন হলে তা ব্রিটেনের জন্য অত্যন্ত খারাপ পরিণতি ডেকে আনবে। বিবিসির রেডিও ফোরকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সমঝোতা ছাড়া ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন হলে ঝুঁকির মুখে পড়বে ব্রিটেনের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা; এমনকি ধরে রাখা যাবে না অঙ্গরাজ্যগুলোর মিলন। ডেভিড গক আশা করেন, ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাঙ্ক্ষিত চুক্তি আশার আলো দেখবে। কারণ ওই দিনই হাউজ অফ কমনসে সম্ভাব্য চুক্তির ওপর ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি পাসে ব্যর্থ হলে সরকার পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী। তখন ব্রিটেনের ব্রেক্সিট পরবর্তী অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও একতা ধরে রাখাই হবে যে কোনো সরকারের জন্য বিরাট বড় চ্যালেঞ্জ। মূলতঃ ব্রিটিশ আইনমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, ব্রেক্সিট ইস্যুতে আইরিশ জনগণ তথা নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সাথে লন্ডনের মতপার্থক্য যেভাবে স্পষ্ট হয়েছে, তাদের যুক্তরাজ্যই ভেঙে যাওয়ার উপক্রম। কারণ আইরিশরা ব্রেক্সিটের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলো। যুক্তরাজ্য বেরিয়ে গেলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নে তারা অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।

ব্রিটিশ সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে যে চুক্তি করতে যাচ্ছে, তাকে বলা হচ্ছে ‘উইদড্রোয়াল এগ্রিমেন্ট’ বা অপসরণ চুক্তি। যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ইউকের বেরিয়ে যাওয়ার শর্তাবলী। তবে এটা ইইউ-ইউকের ভবিষ্যত্ সম্পর্ক নির্ধারণ করবে না। উইদড্রোয়াল এগ্রিমেন্টে কেবল অন্তর্ভুক্ত থাকছে ব্রেক্সিটের দফারফা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ব্রিটেন কত টাকা দেবে, অন্তর্বর্তীকালের মেয়াদ এবং নাগরিক অধিকার। এর আওতায় রয়েছে তথাকথিত ব্যাকস্টপ। যা নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে দেবে নতুন মর্যাদা। যুক্তরাজ্যের অখণ্ডতা টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে এই উইদড্রোয়াল এগ্রিমেন্ট বা ব্যাকস্টপ হতে পারে প্রধান বাধা।

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি- ডিইউপি নেতা নাইজেল ডডস জোর দিয়ে বলেছেন, বাজে চুক্তির চেয়ে চুক্তি না হওয়াই ভালো। ব্রেক্সিট পরবর্তী ইইউ-ব্রিটেন সম্পর্কের মাপকাঠি বলে পরিচিত ব্যাকস্টপ প­্যানে যথেষ্ট পরিবর্তন তথা সংযোজন, বিয়োজন প্রয়োজন বলে মনে করেন এই নেতা। বর্তমানে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের এবং ইইউভুক্ত পৃথক দেশ রিপাবলিক অফ আয়ারল্যান্ডের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো সীমান্ত বাধা বা চেকপোস্ট নেই। সাধারণ মানুষ ও পণ্যের চলাচল অবাধ। ব্যাকস্টপ প­্যান অনুযায়ী এই পরিস্থিতি চলমান থাকবে। তবে এটা কেবল তখনই কার্যকর হবে, যদি না ব্রিটেন ২০২০ সালের মধ্যে ইইউয়ের সাথে সম্পর্ক ইস্যুতে কোনো চুক্তি করতে ব্যর্থ হবে। তবে শুধু নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের জন্য এই মর্যাদা গোটা যুক্তরাজ্যের টিকে থাকার পক্ষে হুমকি বলে মনে করেন অনেকে। মূলতঃ নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও আইরিশ রিপাবলিকের মধ্যে অবাধ সীমান্ত নিশ্চয়তাকেই বলা হচ্ছে ব্যাকস্টপ; যা ‘উইদড্রোয়াল এগ্রিমেন্ট’-এর একটি অংশ।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে জোর তোরজোড় করে চলেছেন থেরেসা মে। একাধিকবার ইউরোপীয় নেতাদের সাথে তিনি চুক্তিবদ্ধ হলেও পার্লামেন্ট বা হাউজ অফ কমনস তা প্রত্যাখ্যান করে। ফলে নতুন করেই প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনা শুরু করতে হয়। এমতাবস্থায় চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট বাস্তবায়িত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সরকারের অনেকেই মনে করেন, সমঝোতা ছাড়া ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাবে না। ব্যাকস্টপে পরিবর্তন আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে শিগগিরই ব্রাসেলস যাওয়ার কথা রয়েছে থেরেসা মের। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বরাবরই বলে আসছে, ওই নীতিমালায় কোনো সংশোধনী নয়।