বজ পাতে রবিবার দুই শিশুসহ চার জনের মৃত্যু ও তিন জন আহত হয়েছেন। এছাড়া রাজশাহী, নাটোর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া ও চাঁদপুরে রবিবার ভোররাতে বজ সহ শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় গম, মসুর, পেঁয়াজ ও রসুন ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝরে পড়েছে আমের মুকুল। শিলার আঘাতে কোথাও কোথাও টিনের চালও ফুটো হয়ে যায়। গাছের ডালপালা ভেঙে যায়। মাঠ, ঘাট, রাস্তায় শিলার স্তূপ জমে যায়।
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের ভাওরকোট গ্রামে চাচা নোমান হোসেন (৪৫) ও সাইফুল ইসলাম ওরফে রাব্বি (১২) শ্যালো পাম্প দিয়ে ক্ষেতে সেচ দিচ্ছিল। হঠাত্ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে তারা দ্রুত সেচ পাইপ সরিয়ে আনতে যান। এ সময় বিকট শব্দে বজ পাত হয়। ঘটনাস্থলেই চাচা-ভাতিজার মৃত্যু হয়।
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, বজ্রপাতে কমলগঞ্জ উপজেলার রাসটিলা গ্রামে ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও তিনজন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, বাড়ির সামনে জমিতে খেলার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাসটিলা গ্রামের রিফাত মিয়া (১০), সবুজ মিয়া (১৮), ওয়াকিল মিয়া (১৩) ও চকন মিয়া (১৪) আহত হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে রিফাত মিয়ার মৃত্যু হয়। নিহত রিফাত গ্রামের জসিম মিয়ার ছেলে।
আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, রবিবার সকালে ভারী বৃষ্টির মধ্যে মুক্তার হোসেন বাড়ির পাশে মেঘনা নদীতে গোসল করতে গেলে বজ পাতে আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিত্সকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি কৃষিজীবী ছিলেন।
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী জানান, রবিবার ভোরে রাজশাহীর পুঠিয়ায় রেকর্ড শিলাবৃষ্টি হয়েছে। আধাঘণ্টার শিলাবৃষ্টিতে ঢেকে যায় উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। এমন শিলাবৃষ্টি এর আগে কখনো দেখেননি পুঠিয়ার ওই এলাকার মানুষ। শিলাবৃষ্টিতে আমের মুকুল, বিভিন্ন সবজি ও চৈতালী ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরিও শুরু করেছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা। রাজশাহী জেলা পরিষদের সদস্য আবুল ফজল বলেন, ভোর ৫টা থেকে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় আধা ঘণ্টায় শিলার আঘাতে বাড়িঘরসহ বিভিন্ন ফসল তছনছ করে দিয়েছে। উপজেলার মধুখালির আমচাষি আবেদ আলী বলেন, তার ৫৫ বছর বয়সে এমন শিলাবৃষ্টি কখনো দেখেননি। এ বছর আম বাগানগুলোতে আগাম মুকুল দেখা দিয়েছিল। এতে এবার আমের বাম্পার ফলনের আশাও করেছিলেন। কিন্তু আমের পাশাপাশি প্রায় সকল ফুল ও ফলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
নাটোর প্রতিনিধি জানান, রবিবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে হঠাত্ শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়া শুরু হয়। প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী একটানা শিলাবৃষ্টিতে মাঠ, ঘাট, রাস্তা, বাড়ির বারান্দায় শিলার স্তূপ জমে যায়। নাটোর সদরের ছাতনি ইউনিয়নের চাষি মোঃ ইশতিয়াক জানান, শিলাবৃষ্টিতে তার পিঁয়াজের ক্ষেতের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, রবিবার সকাল ৯টার দিকে ও পৌনে ১০টার দিকে দু’দফায় আচমকা শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় মতলব উত্তর উপজেলার ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আলু, ভুট্টা, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা রবিবার ভোররাতে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের ৪টি গ্রামের অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। শাকসব্জি, বাঁশঝাড় ও গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়া সদর ও মিরপুর উপজেলায় শিলাবৃষ্টিতে তামাকসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রবিবার ভোরে দমকা হাওয়ার সঙ্গে অবিরাম শিলাবৃষ্টিতে মাঠের পর মাঠের তামাকসহ অন্যান্য উঠতি ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।
