টেকেরহাট (মাদারীপুর) সংবাদদাতা
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা সদরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তিন ঘন্টাব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষে সারা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৬৬ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৭ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের রাবারের গুলি ও গ্রামবাসীর ছোঁড়া ইট-পাটকেলের আঘাতে রাজৈর থানার দুই ওসি, চারজন দারোগা, চারজন কনস্টেবল ও গ্রামবাসীসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছে। আহতদের রাজৈর হাসপাতাল ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রাজৈর উপজেলার সানেরপাড় এলাকায় শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত।
সংঘর্ষ চলাকালে মহাসড়কে প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে, ফলে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে মাদারীপুরের দাঙ্গা পুলিশ এসে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আটজন গ্রামবাসীকে আটক করেছে। এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাজৈর থানা মোড়ে মধুবাজার নামের একটি শপিংমল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জিলাপী খাওয়া নিয়ে মোল্লাকান্দি গ্রামের সজল হাওলাদার ও পাশের বেজেরবাড়ি গ্রামের ইমন শেখের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয় এবং এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সংঘর্ষ আঞ্চলিকতায় রুপ নেয়। পরে দুই গ্রামবাসী মোল্লাকান্দি ও বেজেরবাড়ির লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরস্পরের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় গ্রাম থেকে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজৈর থানার ওসি জিয়াউল মোর্শেদ, ওসি (অপারেশন) মোজম্মেল হোসেন, এসআই নজরুল ইসলাম, এসআই যোবায়ের, এএসআই আজিজুল হক, এএসআই ফারুক মোল্লা, কনস্টেবল সালাউদ্দিন, রোমান, আনোয়ার, হাসিবুর রহমানসহ ১০ পুলিশ সদস্য ও গ্রামবাসী রশিদ, আলী হোসেন, সাগর মাতুব্বর, হাসিবুর রহমান, আসিফ খান, নাজমুল জাহিদুল, জুয়েল, রহমান।
