প্রাণনাশের
হুমকি
g রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বাড়ির জমি লিখে না দেওয়ার জের ধরে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা মনিষা রানি দাস (৪) নামে এক এতিম শিশুসহ নানিকে ঘরে থেকে বের দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, জমি লিখে না দিলে তাদেরকে হত্যার করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ারও হুমকি প্রদান করা হয়। ঘর তালাবদ্ধ করে দেওয়ায় সারারাত এতিম শিশুসহ তার নানি খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন। গত শনিবার রাতে উপজেলার তারাব পৌরসভার ঐরাবো এলাকায় ঘটে এ ঘটনা।
শিশুর নানি নিয়তি রানি দাস জানান, তিনি তার বাবার ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হয়ে এক কাঠা ২০ পয়েন্ট জমিতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। তার মেয়ের জামাতা মানিক দাস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিন বছর আগে মারা যান। আর মেয়ে শান্তা রানী দাসও পাঁচ মাস আগে ক্যান্সারে মারা যান। একমাত্র নাতি মনিষা রানি দাসকে নিয়ে বর্তমানে তিনি ওই বাড়িতেই বসবাস করে আসছেন।
মাসখানেক আগে নাতি মনিষা রানি দাসের সঙ্গে একই এলাকার রাজু মিয়ার ছেলে রিহান খেলাধুলা করছিল। খেলার এক পর্যায়ে মনিষার হাতে থাকা একটি বাঁশের ফলা গিয়ে রিহানের ডান চোখে লাগে। এরপর রিহানের সেই চোখটি নষ্ট হয়ে যায়। এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিচার সালিসের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন নিয়তি রানিকে। পরে জরিমানার ৪০ হাজার টাকা ভিক্ষা ও ধারদেনা করে বহু কষ্টে যোগাড় করে মনিষা সেই টাকা রিহানের বাবা রাজু মিয়াকে দেন। রাজু মিয়া সেই টাকা গ্রহণ না করে নিয়তি রানিকে এক কাঠারও বেশি জমি বাড়িসহ লিখে দেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। আর বাড়িসহ জমি লিখে না দিলে নানি-নাতিকে হত্যার পর শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
শনিবার রাতে নিয়তি রানি ও নাতি মনিষাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা দেয় রাজুসহ একদল সন্ত্রাসী। এ ব্যাপারে নিয়তি রানি দাস প্রশাসনের কাছে সুবিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে তারাব পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাসেল শিকদার বলেন, আমরা বিচার-সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছি। অথচ রাজু মিয়া স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটিয়ে অন্যায়ভাবে নিরীহ নিয়তি রানি দাসের কাছ থেকে জোরপূর্বক বাড়িসহ জমি লিখে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরাও প্রশাসনের কাছে এর সুবিচার প্রার্থনা করছি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাজু মিয়াসহ অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।
রূপগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হক বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারটিকে আমার কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে বলেন। যত বড় প্রভাবশালী বা মাস্তান হোক না কেন, এ অন্যায় আমি করতে দেবো না। এখনই আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।
