বিপিসি’র ৫৭ কোটি টাকা দুই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:২৫

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ৫৭ কোটি টাকা দুই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তরের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ দুই কর্মকর্তা হলেন বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ ও  মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মাদ শাহেদ। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর চলতি সপ্তাতে কমিশন এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী।

দুদক সূত্র জানায়, সম্প্রতি দুদকের হট লাইনে অভিযোগ আসে যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ‘স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোমপানি লিমিটেড’- এর পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ এবং মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মাদ শাহেদ পারসপরিক যোগসাজশে উক্ত কোমপানীর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব হতে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলনপূর্বক তাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে ‘পিরামিড এক্সিম লিমিটেড’ এবং ‘গুডউইন’ নামক কোমপানীর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে অবৈধভাবে অর্থ জমা করছে।

 এ অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরীর নির্দেশে গত ২৮ জানুয়ারি দুদকের পরিচালক এসএম সাহিদুর রহমান এবং মোহাম্মাদ মাহমুদুর রহমান-এর সমন্বিত এনফোর্সমেন্ট টিম যথাক্রমে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড, উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড, আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড ও এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড-এ অভিযান চালিয়ে হিসাবের অনুসন্ধান করে। দুদক টিম কোমপানির পরিচালক ও তাঁর স্ত্রীর পিরামিড এক্সিম লিমিটেড কোমপানির নামে গত তিন বছরে বিভিন্ন ব্যাংকে সর্বমোট ৪৩ কোটি টাকার বেশি এবং মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহেদের ব্যক্তিমালিকানাধীন গুডউইন কোমপানির নামে গত তিন বছরে প্রায় ১৪ কোটি টাকা জমা এবং উত্তোলনের প্রাথমিক প্রমাণ পায়। এ ঘটনা উদঘাটনের পর গত ৬ ফেব্রুয়ারি দুদকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে উল্লিখিত ব্যক্তিদ্বয়ের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দুদক এনফোর্সমেন্ট অভিযানের প্রধান, মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থ কোনোভাবেই ব্যক্তিগত হিসেবে স্থানান্তরের সুযোগ নেই। এ দুর্নীতির অনুসন্ধান শেষে শিগগিরই দুদক আইনি ব্যবস্থা নেবে। পুরো অনুসন্ধান প্রক্রিয়া কঠোরভাবে মনিটর করা হচ্ছে।