সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল

আগুন লাগে নিচতলায় শিক্ষকের কক্ষ থেকে

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:৪৩

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ভবনের তিনতলার শিশু ওয়ার্ড থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়-প্রথমে এমনটাই দাবি করেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত একটি তদন্ত কমিটিসূত্রে জানা গেছে, শিশু ওয়ার্ড থেকে নয়, আগুন প্রথমে লেগেছিল ভবনের নিচতলায় কলেজের একজন শিক্ষকের কক্ষে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ওই আগুনের সূত্রপাত হয়, যা পরে উপরে যায়।

এদিকে দুর্ঘটনার সময় হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ থেকে ১২টি কম্পিউটার চুরি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণ করার সময় গত শনিবার বিষয়টি ধরা পড়ে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, আগুন লাগার পর কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুত্ ছিল না। ওই সময় রোগী ও স্বজনদের সহায়তায় বাইরে থেকে শত শত মানুষ হাসপাতালে ঢুকেছিল। তাদের মধ্যে দুষ্কৃতকারীরাও থাকতে পারে, যারা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক উত্তম কুমার বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, আগুনে ১৫-২০টি এসি, ২০০টি  বৈদ্যুতিক পাখা, ৫-৬টি কম্পিউটার, গজ-ব্যান্ডেজ, ওষুধ, সিরিঞ্জ, কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের কাজে ব্যবহূত তরল পুড়ে গেছে। এ ছাড়া আগুন লাগার ওই সময়টায় কম্পিউটারের পাশাপাশি কয়েকটি ফ্যানও চুরি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আগুন লাগে রাজধানীর এই সরকারি হাসপাতালে। ওই দিনই স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বাবলু কুমার সাহাকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ৯ সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির একজন সদস্য সাংবাদিকদের বলেছেন, হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এ এইচ এম ফিরোজ, কলেজের উপাধ্যক্ষ শাহাদত হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষকের কক্ষ রয়েছে। এসব কক্ষের পাশেই স্টোররুম। গত বৃহস্পতিবার কলেজ ছুটির পর শিক্ষকেরা কক্ষে তালা মেরে চলে যান। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে অধ্যাপক ফিরোজ অথবা অধ্যাপক শাহাদত হোসেনের কক্ষে শর্টসার্কিটের ঘটনা ঘটে। এরপর আগুন অন্য শিক্ষকদের কক্ষে ও পাশের স্টোররুমে ছড়ায়। শিগগিরই রিপোর্ট দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

অগ্নিকাণ্ডের পর ধীরে ধীরে হাসপাতালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। একমাত্র শিশু ওয়ার্ড ছাড়া হাসপাতালের অন্য সব ওয়ার্ড চালু হয়েছে। গতকাল বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৮৬৫ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। বহির্বিভাগে বিকাল পর্যন্ত সেবা নিয়েছেন ১ হাজার ৭৮১ জন ও জরুরি বিভাগে ২৯৪ জন। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ছিলেন ৭ জন। তাদের ৬ জন আগুনের ঘটনার আগে থেকেই ছিলেন। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে ৬০টি। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে এই ওয়ার্ডে উত্কট গন্ধ। দেয়াল ও ছাদে পোড়া দাগ। পুরো ওয়ার্ড রং করার পর খুব শিগগির শিশুদের জন্য তা খোলা হবে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগুন লাগার সময় ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল ৭২ শিশু। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।