একুশের নতুই বই

মীজানুর রহমান রচনাসমগ্র

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৫৩

মাওলা ব্রাদার্স

প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ। মূল্য : ৬০০ টাকা

 

মীজানুর রহমান খ্যাতি অর্জন করেছিলেন নিজের নামের সাময়িকপত্র ‘মীজানুর রহমানের ত্রৈমাসিক পত্রিকা’র সম্পাদক হিসেবে। এই পত্রিকার বৃক্ষ সংখ্যা, পক্ষী সংখ্যা, নদী সংখ্যা, গণিত সংখ্যা প্রভৃতি বিশেষ সংখ্যা বাংলা ভাষার সাময়িকপত্রের ভাণ্ডারে অমূল্য সম্পদ। কিন্তু তিনি শুধু সম্পাদকই ছিলেন না, বিরল শ্রেণির একজন সুলেখকও ছিলেন। অনবদ্য ভাষাশৈলী, সরস বর্ণনাভঙ্গি, তীক্ষ পর্যবেক্ষণশক্তি ও গভীর ইতিহাসবোধ এই লেখকের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

তাঁর তিনটি অসাধারণ বই নিয়ে তাঁর রচনাসমগ্রের এই খণ্ড : কমলালয়া কলকাতা, কৃষ্ণ ষোলোই ও ঢাকা পুরাণ। ‘কমলালয়া কলকাতা’ উভয় বাংলায় প্রশংসিত হয়েছে। গত শতকের তিরিশ ও চল্লিশের দশকের কলকাতা মহানগরীর রূপ জীবন্ত হয়ে উঠেছে এই বইতে। কলকাতা নিয়ে এমন তথ্যবহুল, সুখপাঠ্য ও সুন্দর বই অত্যন্ত বিরল।

‘কৃষ্ণ ষোলোই’ রুদ্ধশ্বাসে পড়ার মতো এক রোমহর্ষক বই। ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট কলকাতায় যে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়েছিল, যার ফলে ভারত-বিভাগ ত্বরান্বিত হয়েছিল, চার দিনের সেই ভ্রাতৃঘাতী রক্তপাত নিজের চোখে দেখেছিলেন ১৫ বছর বয়সী কিশোর মীজানুর রহমান। সেই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার লিখে রাখা বর্ণনা এবং আনুষঙ্গিক বই ও পত্রপত্রিকার তথ্য ব্যবহার করে তিনি লেখেন ‘কৃষ্ণ ষোলোই’।

ঢাকা মহানগরের ইতিহাসের খুঁটিনাটি বিবরণে সমৃদ্ধ বই ‘ঢাকা পুরাণ’। ঢাকা নিয়ে অনেক বই লেখা হয়েছে, কিন্তু ‘ঢাকা পুরাণ’ যে অনন্য তার স্বাক্ষর এ বইয়ের পাতায় পাতায় রয়েছে।

মীজানুর রহমানের জন্ম ১৯৩১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বিক্রমপুরের টোল বাসাইল গ্রামের পৈত্রিক ভিটায়। ১৯৪৬ সালে ১৫ বছর বয়সে হাতে লেখা কিশোর পত্রিকা ‘মুয়াজ্জিন’ সম্পাদনার মধ্য দিয়ে সম্পাদক হিসেবে আত্মপ্রকাশ। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট সপরিবার কলকাতা থেকে ঢাকায় এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু। ১৯৪৮ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশ করেন পাকিস্তানের প্রথম কিশোর পত্রিকা ‘ঝংকার’। ১৯৫০ সালে প্রকাশ করেন সাহিত্য ও বিনোদনমূলক মাসিক পত্রিকা ‘রূপছায়া’। ১৯৬১ থেকে ১৯৬৫ পর্যন্ত সম্পাদনা করেন পুলিশ বিভাগের পত্রিকা ‘ডিটেকটিভ’। সাপ্তাহিক রমনা ও সাপ্তাহিক চিত্রালীর সম্পাদকীয় বিভাগ এবং রেডিও পাকিস্তানের চট্টগ্রাম শাখার বার্তা বিভাগে কিছু সময় সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৩ সালে প্রকাশ করেন ‘মীজানুর রহমানের ত্রৈমাসিক পত্রিকা’, আমৃত্যু এই পত্রিকা সম্পাদনা করাই ছিল তাঁর কাজ। ২০০৬ সালে কলকাতায় চিকিত্সারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।