ড্রাফটে না থেকেও আলোচনায় সাকিব

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:২১

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ছাড়াই ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ খেলতে সম্মত হয়েছিল ক্লাবগুলো। প্লেয়ার্স ড্রাফটে নামই ছিল না সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিমের। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য তামিম-মুশফিক বিসিবিকে চিঠি দিয়েই প্রিমিয়ার লিগ খেলতে অনাগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তবে ড্রাফটে সাকিবের নাম না থাকার আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছিল চোটে পড়ে নিউজিল্যান্ড না যাওয়া সাকিব প্রিমিয়ার লিগের সময়ে আইপিএলে খেলবেন।

গতকাল প্রিমিয়ার লিগের নিস্তরঙ্গ প্লেয়ার্স ড্রাফটের শেষভাগে কিছুটা উত্তাপ তৈরি হলো এই বাঁহাতি অলরাউন্ডারকে নিয়ে। প্রশ্ন উঠেছে, দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট না খেলে সাকিব কেন আইপিএল খেলবেন? বা সুস্থ হয়ে উঠলে আদৌ প্রিমিয়ার লিগ নাকি আইপিএল খেলবেন তিনি?

বিশ্বকাপ বিবেচনায় টি-২০ ফরম্যাটের আইপিএলের চেয়ে একদিবসী ক্রিকেটের প্রিমিয়ার লিগই তো প্রস্তুতির মোক্ষম ক্ষেত্র হবে ক্রিকেটারদের জন্য। গতকাল সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে বসে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ সাকিবকে নিয়ে উঠা প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি। বিসিবির এই পরিচালক বলেছেন, সাকিব এখন ইনজুরিতে ভুগছেন। সুস্থ হয়ে উঠার পর তিনি কোথায় খেলবেন তা সাকিব ও বিসিবি ঠিক করবে।

কাজী ইনাম বলেছেন, ‘সাকিব নিউজিল্যান্ড সিরিজে যোগ দিতে পারছে না ইনজুরির কারণে। সাকিব ইনজুরি থেকে ফিরলে তাকে কখন পাওয়া যাবে তা বিবেচনা করা হবে। প্রথমত হচ্ছে সে সুস্থ হয়ে উঠুক, যাতে বিশ্বকাপে পাওয়া যায়। আমি নিশ্চিত এটা সাকিব ও বোর্ডের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বের বিষয়।’

সিসিডিএম চেয়ারম্যানের কথায় স্পষ্ট ড্রাফটে সাকিবের না থাকার কারণ জানা নেই তাদের। বিসিবির এই পরিচালক বলেছেন, ‘তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, আমাদের চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে তারা তাদের নিজেদের প্রস্তুতির জন্য ব্যস্ত থাকবে। অন্য কিছু প্লেয়ার বিশ্রাম চেয়েছে, আমাদের হেড কোচ স্টিভ রোডসের যেভাবে দিয়েছে, সেভাবেই ড্রাফটে বলে দেওয়া হয়েছে, এই সময়ের আগে কিন্তু প্লেয়ারকে পাওয়া যাবে না।’

বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কের কাছে ঘরোয়া ক্রিকেট বরাবরই গুরুত্বহীন। আগামী ৮ মার্চ শুরু হবে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। একই সময়ে হবে আইপিএল। ২৩ মার্চ মাঠে গড়ানোর কথা আইপিএল-এর। তাই দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগ ছেড়ে বিপুল অর্থের আইপিএলে সাকিবকে দেখলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

গতকাল প্লেয়ার্স ড্রাফটে দল গঠন করেছে ১২টি ক্লাব। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর পাশাপাশি শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব, গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব বেশ ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়েছে।

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে শেখ জামাল, মুস্তাফিজুর রহমান- সৌম্য সরকারকে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব দলে টেনেছে। যদিও খেলোয়াড় বদলের নিয়মের সুযোগে শেষপর্যন্ত সৌম্য আবাহনীর হয়ে খেলতে পারেন। রুবেল-মিরাজ-মিঠুন-সাইফউদ্দিন আবাহনীতে, তাইজুল-খালেদ আহমেদ শেখ জামালে, লিটন দাস-আশরাফুল মোহামেডানে, মুমিনুল হক রূপগঞ্জের হয়ে খেলবেন।

এই মৌসুমে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নিয়ে গড়িমসি করা ক্লাবের পয়েন্ট কাটা বা ক্লাব নিষিদ্ধ করার নিয়ম করেছে সিসিডিএম। লিগের পরিবেশ ঠিক রাখতে আম্পায়ারিং নিয়েও সতর্ক থাকার আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি।

ক্রিকেটাররা  কে কোন দলে

আবাহনী লিমিটেড

মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোসাদ্দেক হোসেন, নাজমুল হোসেন শান্ত, রুবেল হোসেন, জহুরুল ইসলাম অমি, দেলোয়ার হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, টিপু সুলতান, মোহাম্মদ মিঠুন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

 

 

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ

নাঈম ইসলাম, নাঈম শেখ, আসিফ হাসান, মুমিনুল হক, জাকের আলী অনিক, মোহাম্মদ শহীদ, শাহরিয়ার নাফিস, নাবিল সামাল, আসিফ আহমেদ রাতুল, আজমীর আহমেদ, শুভাশীষ রায়, মুক্তার আলী, মিনহাজুর রহমান ও সালাউদ্দিন পাপ্পু।

 

প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব

ফরহাদ রেজা, মার্শাল আইয়ুব, আরাফাত সানি, তাইবুর রহমান পারভেজ, সাইফ হাসান, সৈকত আলী, মাহমুদুল হাসান লিমন, আবু জায়েদ রাহী, জসিমউদ্দিন, এনামুল হক জুনিয়র, মোঃ ফরহাদ হোসেন ও আরাফাত সানি জুনিয়র।

 

 

 

খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি

রবিউল ইসলাম রবি, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, তানভীর ইসলাম, রবিউল হক, মঈনুল ইসলাম সোহেল, অমিত মজুমদার, মাসুম খান, রাফসান আল মাহমুদ, নাজিমউদ্দিন ও আব্দুল হালিম।

 

 

গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স

ইমরুল কায়েস, মেহেদী হাসান, আবু হায়দার রনি, রনি তালুকদার, শামসুর রহমান শুভ, মোশাররফ হোসেন রুবেল, কামরুল ইসলাম রাব্বি, মাইশুকুর রহমান, রায়হান উদ্দিন, শামসুল ইসলাম অনিক, মেহেদী হাসান রানা, তাসামুল হক রুবেল ও ওয়ালিউল করিম রনি।

 

 

 

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব

রকিবুল হাসান, কাজী অনিক ইসলাম, ইরফান শুক্কুর, আব্দুল মজিদ, শফিউল ইসলাম, নিহাদুজ্জামান, নাদিফ চৌধুরী, সোহাগ গাজী, অভিষেক মিত্র, লিটন দাস, আলাউদ্দিন বাবু, রাহাতুল ফেরদৌস, মোহাম্মদ আশরাফুল, মোহাম্মদ আজিম ও নুরুজ্জামান।

 

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব

আরিফুল হক, জাকির হাসান, আল আমিন জুনিয়র, এনামুল হক বিজয়, অলক কাপালি, আব্দুর রাজ্জাক, নাহিদুল ইসলাম, মোহর শেখ অন্তর, আল আমিন হোসেন, ৃমনির হোসেন খান, সালমান হোসেন ইমন, নাঈম হাসান, নাজমুল হোসেন মিলন, নূর আলম সাদ্দাম ও ইমরান আলী।

 

শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব

শুভাগত হোম, আফিফ হোসেন, তৌহিদ হূদয়, সৌম্য সরকার, সোহরাওয়ার্দী শুভ, ধীমান ঘোষ, শরীফুল ইসলাম, মোঃ রাকিব, সাব্বির হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান ও সাদমান ইসলাম অনিক।

 

ব্রাদার্স ইউনিয়ন

জুনায়েদ সিদ্দিকী, মিজানুর রহমান, ইয়াসির আলী চৌধুরি, ফজলে রাব্বি মাহমুদ, শরীফউল্লাহ, নাঈম ইসলাম জুনিয়র, এবাদত হোসেন চৌধুরী, হামিদুল ইসলাম হিমেল, আশিকুজ্জামান আশিক ও হাবিবুর রহমান জনি।

 

 

উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব

নাজমুল ইসলাম অপু, সাব্বির রহমান, সানজামুল ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মিনহাজ খান রিফাত, শাকির হোসেন শুভ্র, সাজ্জাদ হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, শেখ হুমায়ন ও মোহাইনুল খান।

 

শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব

নুরুল হাসান সোহান, জিয়াউর রহমান, তানবীর হায়দার, নাসির হোসেন, ইলিয়াস সানি, শহীদুল ইসলাম, ইমতিয়াজ হোসেন তান্না, তাইজুল ইসলাম, ফারদিন হাসান অনি, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আনামুল হক, সালাউদ্দিন শাকিল, রাকিন আহমেদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, মিনহাজুল আবেদিন আফ্রিদি, হাসানুজ্জামান ও মেহরাব হোসেন জোসি।

 

বিকেএসপি

শামীম হোসেন, আকবর আলী, পারভেজ হোসেন, মাহমুদুল হাসান জয়, মুকিদুল ইসলাম, সুমন খান, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, রাতুল খান, আব্দুল কাইয়ুম, হাসান মুরাদ ও নওশাদ ইকবাল।