আমরা মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৫

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানিয়ে আমরা বলতে চাই আমাদের চলার পথে মাতৃভাষা হিসেবে বাংলাভাষা স্বীকৃতি পেয়েছে এবং একই সঙ্গে আনন্দের বিষয় ২১ ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, আমাদের অগ্রগতি আজ সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। জাতিসংঘও আজ কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে তাদের বক্তব্যে স্থান দিচ্ছে। এটি আমাদের অগ্রগতি প্রমাণ করে। আমাদের ভাষাকে তাই আরো সরল, সুন্দর, শ্রুতিমধুর ও সার্থক করে প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। উচ্চ শিক্ষিত, পণ্ডিত, বুদ্ধিজীবী সবারই তাই অনেক দায়িত্ব।

সর্বস্তরে বাংলাভাষাকে চালু রাখতে আমরা বিগত দিনে অনেক দূর এগিয়েছি। আমাদের নতুন প্রজন্ম আজ এই পথ ধরেই এগিয়ে চলেছে, দেশকে বিশেষভাবে ভালোবাসতে শুরু করেছে। আমরা আশাবাদী আমরা অচিরেই প্রতিষ্ঠা পাব। একদিন নিশ্চয় আমাদের নতুন প্রজন্মও দেশ নিয়ে, ভাষা নিয়ে, আরো বেশি গর্ব অনুভব করবে। মানুষ ছোট থেকে বড় হয়,  বৃদ্ধ হয়, এরপর এক সময় মৃত্যুবরণ করে আর রেখে যায় তার উজ্জ্বল স্মৃতি। আর এই পুরাতন ঐতিহ্যকে ধারণ করে একটি রাষ্ট্র তিলে তিলে গড়ে ওঠে, বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হয়। একটি দেশের প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পিছনে সে দেশের ভাষার অবদান কম নয়। তাই আমরা চলনে, বলনে, লিখতে এ ভাষার অবদানকে মনে রাখব। দিনে দিনে আমাদের ভাষা আরো সমৃদ্ধ হবে, সর্বোপরি প্রচার প্রসারে বাংলাভাষা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষায় রূপান্তরিত হবে যদি ভাষার এই গবেষণা ও প্রচলন অব্যাহত থাকে।

সরকার অন্যান্য ভাষার পাশাপাশি আমাদের রাষ্ট্রভাষাকে আরো সুন্দর ও সমৃদ্ধ করতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে । বাংলা একাডেমি বিশেষভাবে এ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ভাষার উন্নয়নে যে কাজ শুরু করেছিল তা অব্যাহত থাকায় এর সুফল আমরা পেয়েছি ও পাচ্ছি। তাই সবার উদ্যোগে এ জাতিকে এগিয়ে নিতে হবে। এখনো যে সমস্ত স্থানে বাংলা প্রচলন হয়নি সেগুলো চিহ্নিত করে গুরুত্ব অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশেই এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়। ভাষার এ প্রচলন যদি অব্যাহত থাকে তাহলে বিশ্বের অনেক দেশেই ধীরে ধীরে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের আবির্ভাব হবে। এবং এক সময় বাংলাভাষা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়বে।

জাতি, ধর্ম, বর্ণ  নির্বিশেষে সহজে কথা বলার ও লেখার মাধ্যম হিসেবে আমাদের প্রচলিত বাংলাভাষা এদেশের সকল ভাষাভাষীর একমাত্র  মাধ্যম। দেশের বিভিন্ন এলাকার আঞ্চলিক ভাষার যে প্রভাব তা সচরাচর পৃথিবীর সব দেশেই বিদ্যমান। তবে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে যে বাংলাভাষায় আমরা কথা বলছি, লিখছি তার প্রচার ও প্রসারের কথা মাথায় রেখে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার এইতো সময়। জাতিসংঘ শান্তি মিশনে অংশগ্রহণকারী আমাদের সেনাবাহিনীর সদস্যদের সুনাম আমাদেরকে আনন্দিত করে। আমরা আরও আনন্দিত হই যখন শুনতে পাই আমাদের সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জাতিসংঘ মিশনে উদ্বাস্তু শিবিরে বাংলাভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেসব দেশের অনগ্রসর জনগোষ্ঠী শিক্ষিত হচ্ছে। আমরা গর্ববোধ করি এধরনের কর্মসূচিতে অসহায় মানুষকে শিক্ষিত করার পাশাপাশি আমাদের মাতৃভাষা যখন অন্যদের কণ্ঠে শুনতে পাই।

আমরা বাংলাদেশি-বাঙালি বীরের জাতি। আমরা মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। শিক্ষা আমাদের মাথাকে সমুন্নত করে। আর শিক্ষার মূলে যে-ভাষা আমরা আমাদের বুকে ধারণ করছি সেই বাংলা ভাষাকে আমরা যদি বিশ্বের কাছে গ্রহণীয় সীমায় নিয়ে যেতে পারি তাহলেই আমাদের জীবন সার্থক। আরো একবার আমাদেরকে বিষয়টি নিয়ে নিরালায় ভাবতে হবে, তাহলে আমাদের মাতৃভাষাকে আমরা একসময় আন্তর্জাতিক বাংলাভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব ।

n লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ