প্রেম ভাঙতে ছিনতাই নাটক, অতঃপর...

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১৬:৪১

প্রেমিকের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে বাল্যবন্ধুর সহযোগিতায় ছিনতাই নাটক সাজিয়ে শেষ করতে চাচ্ছিলেন সম্পর্ক। তবে স্থানীয় ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে ভেস্তে যায় সেই পরিকল্পনা। সোমবার(১৯ অক্টোবর) বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সামাজিক বনায়নে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছিনতাইকারী-শিক্ষার্থী হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে ইকবাল হোসেন নামে এক ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে সামাজিক বনায়নে ঘুরতে আসেন মুন্সিগঞ্জের রাসেল দেওয়ান ও কুমিল্লার চান্দিনার এক ছাত্রী। বাহরাইন প্রবাসী রাসেলের সঙ্গে ওই ছাত্রীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। সম্পর্কের অবনতি হলে ওই ছাত্রী রাসেলকে কুমিল্লায় এসে দেখা করার কথা বলেন। রাসেল মুন্সিগঞ্জ থেকে কুমিল্লায় আসলে ওই ছাত্রী তার বাল্যবন্ধু আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলামকে নিয়ে রাসেলকে ভয় দেখাতে ছিনতাইনাটকের পরিকল্পনা করেন। সে অনুযায়ী আজহার ও তার বন্ধু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী এম এইচ সাকিবসহ ৭-৮ জন রাসেলের ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে মারধর করেন। এ সময় সালমানপুর এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী টারজান গ্রুপের সদস্য ইকবাল হোসেন, নয়ন, মিজান ও আলাউদ্দিন এসে উল্টো শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত রাসেলের মোবাইলসহ মানিব্যাগ কেড়ে নেন। এ সময় গাছের ডাল দিয়ে তাদের মারধর করে ছিনতাইকারীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসে টারজান ইকবাল ও আলাউদ্দিনকে গণধোলাই দিয়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন। প্রেমিক রাসেল এবং ওই ছাত্রীকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ইকবালকে পুলিশে সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অধিকাংশ ছিনতাইয়ে ইকবালের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও জানান স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে প্রেমিক রাসেল বলেন, আমাদের ৫-৬ বছরের সম্পর্ক। আমাদের দুই ফ্যামিলি বিষয়টি জানতো। কিন্তু কেন এমন ঘটনা করলো বুঝতে পারছি না।

অভিযুক্ত আজহার ওই ছাত্রীর বিষয়ে বলেন, মেয়েটি আমার বাল্যবন্ধু। সে আমাকে তার প্রেমিকের আসার কথা বলে নিয়ে আসেন। এত বড় ঘটনা হয়ে যাবে বুঝতে পারিনি।

ছিনতাইকারী ইকবাল বলেন, কয়েকজন মিলে ছেলে ও মেয়েকে মারধর করতেছে দেখে আমি, নয়ন, মিজান তাদের বাঁচাতে ছুটে আসি। হাতে গাছ নিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করি। আমি কোন মোবাইল নেয়নি।

এ বিষয়ে কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীরা একজন ছিনতাইকারী আটক করেছে শুনে আমি যাই। আটক ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে পূর্বেও অভিযোগ ছিল। আমরা তাকে থানায় প্রেরণ করেছি। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যান্যদের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর জড়িতথাকার বিষয়ে প্রক্টর ড.কাজীমোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, সে যেহেতু আমাদের শিক্ষার্থী, ঘটনায় তার জড়িত থাকার বিষয়ে খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন উপাচার্য বরাবর প্রেরণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এমআর/এনএজেডএন